বেগম খালেদা জিয়া কি বাংলাদেশের ঐক্যের শেষ প্রতীক?
সুবাইল বিন আলম
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম
বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত
‘সরকারি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ক্ষমতা, নির্বাচন বর্জন, লাভজনক পদ প্রত্যাখ্যান কিংবা কারাবরণ—এসবই ব্যক্তিগত ত্যাগের নিদর্শন হিসেবে মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করে।’
না, আমি নেলসন ম্যান্ডেলার কথা বলছি না। আমি বলছি বাংলাদেশের ইউনিটির প্রতীক খালেদা জিয়ার কথা। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই কথাটি উদ্ধৃত করেছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, যা বোঝায় রাজনৈতিক মেরুকরণের এ দেশেও তার প্রতি সম্মান সবসময়ই ছিল অটুট।
খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় দিনাজপুরেই। ১৯৬০ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বৈবাহিক জীবন তাকে শুধু গৃহিণী নয়, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।
কোথা থেকে শুরু করবো? ১৯৭১ সালে স্বামী যুদ্ধে। তিনি সন্তানসহ এক দেশদ্রোহীর ফ্যামিলি মেম্বার হিসেবে বন্দী। মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি নিয়ে ঘুরছে পুরা ফ্যামিলি। পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসররা বারবার হুমকি দিত, ‘জিয়াকে ধরিয়ে দাও, নইলে পুরো পরিবারকে শেষ করে দেব।’ খালেদা জিয়া কখনো ভেঙে পড়েননি। তার সেই নীরব প্রতিরোধই পরবর্তীতে বাংলাদেশের নারীদের জন্য এক অলিখিত সাহসের দলিল হয়ে আছে।
নাকি ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বরের কথা। যখন খালেদ মোশাররফ তুলে নিয়ে গেলেন। ৭ তারিখের আগে পর্যন্ত কোন খবর কেউ জানে না।
নাকি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর, যখন ১৯৮১ সালে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। এটি ছিল পরিস্থিতির চাপ, কিন্তু পরবর্তী সময় প্রমাণ করেছে তার রাজনীতিতে উঠে আসা কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে দুই কিশোর ছেলেকে নিয়ে তিনি যখন বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন, তখন দেশ দেখেছিল এক নতুন খালেদা জিয়াকে যিনি শুধু জিয়ার বিধবা নন, জিয়ার উত্তরাধিকারের যোগ্য সৈনিক। তিনি রাজনীতিতে এসেছেন সংগ্রাম করে, দল ধরে রেখে, এবং এক সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নেতৃত্ব দিয়ে।
১৯৮৪ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত এরশাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে তিনি ছিলেন কেন্দ্রীয় মুখ। গৃহবন্দিত্ব, দমন-পীড়ন, রক্তপাত কিছুই তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। তাকে করেছে আপোষহীন নেত্রী। শেষ পর্যন্ত তিনি সামরিক শাসককে বিদায় করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের ঐতিহাসিক রায়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এখনো দেশের মানুষ ভাঙব কিন্তু মচকাবো না—সেই আপোষহীনতায়। ১৯৯০-এর ৬ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগ করলে পুরো ঢাকা শহরে যে জনসমুদ্র নেমেছিল, তার মধ্যে একটি স্লোগান সবচেয়ে বেশি শোনা গিয়েছিল, ‘খালেদা জিয়ার জয়যাত্রা, গণতন্ত্রের মুক্তি পতাকা’। সেই দৃশ্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অক্ষ, আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি যে ভারসাম্যে দাঁড়িয়ে ছিলো, তার মূল কেন্দ্র খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ এ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রবর্তন যা বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। শেখ হাসিনা নিজেও ২০০৮-এর আগে এই সংস্কৃতির সুফল পেয়েছিলেন। আজ যখন সেই সংস্কৃতি ভেঙে ফেলা হয়েছে, তখনই মানুষ বুঝতে পারছে খালেদা জিয়া কত বড় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ছিলেন। ২০১১ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, তখন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক’। পরবর্তীতে তার সেই ভবিষ্যৎবাণী জাতির জন্য নির্মম সত্য হয়ে দাড়িয়েছিল।
তার রাজনৈতিক গুরুত্বকে তিনভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:
১. নারী নেতৃত্বের পথিকৃৎ—দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ক্ষমতায় যাওয়া নারী নেত্রীর নজির খুব কম। তিনি সেই বিরলদের একজন।
২. গণমুখী রাজনীতির ভাষা তৈরি—সাধারণ মানুষের ভাষায় রাজনীতি ব্যাখ্যা করা, সার্বভৌমত্ব–নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনা—এ কাজটি তিনি ধারাবাহিকভাবে করেছেন।
৩. দুই-দলীয় রাজনৈতিক ভারসাম্যের কেন্দ্রবিন্দু—বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র টিকে থাকার যে কাঠামো, তার বড় অংশ তৈরি হয়েছে তার রাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে।
তার দুই মেয়াদকালে স্বাক্ষরতা বৃদ্ধি, অর্থনীতি উন্মুক্তকরণ, ব্যবসায় বান্ধব কাঠামো, শিল্প সম্প্রসারণ, এসব ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। গ্রামীণ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নেও তার সময় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। নারী শিক্ষা অবৈতনিকের মাধ্যমে নারী শিক্ষা বাস্তবায়নে তার ভুমিকা অপরিসীম। ক্ষুদ্রঋণ, নারী শিক্ষার প্রসার এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তার সরকারের নীতি আজও আলোচিত। ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশ তখন ছিল ৬৫তম, যা আজ নেমে এসেছে ১৬৮তম।
সমালোচনার জায়গায় দুর্নীতির সূচক, হাওয়া ভবন বিতর্ক বা সন্ত্রাসবাদের উত্থান আলোচিত হলেও, দুর্নীতির সূচক আগের আওয়ামী লীগের সময়ের ধারাবাহিকতা। যা থেকে তার সময়েই বাংলাদেশ বের হয়ে আসে। তার শাসনামলে দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং জঙ্গি দমন ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তার সময়েই অনেক উচ্চপ্রোফাইল জঙ্গি নেতা গ্রেপ্তার হয়, যা রাষ্ট্রে সন্ত্রাসের বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন অনেকে। কিন্তু সবচেয়ে ধারাবাহিকভাবে শিকার হয়েছেন খালেদা জিয়া। কারণ স্পষ্ট, তিনি এমন একজন নেত্রী যার উপস্থিতি একাই ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারত। ২০০৮–এর পর তার বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—বাড়ি থেকে উচ্ছেদ, র্যাব-পুলিশ-সেনা দিয়ে বাড়ি ঘেরাও, আদালতে শুনানি অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, বিদেশে চিকিৎসা বন্ধ, তার দুই ছেলেকে লক্ষ্য করে অপারেশন, এক ছেলের বিদেশেই মৃত্যু, যে খবরও তাকে ঠিক সময়ে দেওয়া হয় নাই। এসবই মোটেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়; ছিল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা।
২০১৮ সালের মামলায় তাকে যেভাবে সাজা দেওয়া হয়, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মানবিক কারণে জামিন না দেওয়া, বিদেশে চিকিৎসা অস্বীকার—এসব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যখন তাকে ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়, তখন তার বয়স ছিল ৭৩। আদালত কক্ষ থেকে সোজা পুরোনো কারাগারে নেওয়া হয়। সেদিন থেকে শুরু হয় এক নতুন প্রতিহিংসার অধ্যায়—যেখানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ‘বি-গ্রেড’ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছিল, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এমনকি তার ছেলের মৃত্যুর খবরও তাকে সঠিক সময়ে দেওয়া হয়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল-এর মতো সংস্থাগুলো তার কারাবন্দী অবস্থা, চিকিৎসার সুযোগ সীমিতকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার দীর্ঘ কারাবাস ও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয়।
২০২২ সাল থেকে তিনি সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। কারামুক্তির পর উন্নত চিকিৎসায় কিছুটা স্থিতিশীল হলেও তিনি এখন ভেন্টিলেশন সাপোর্টে।
তার নেতৃত্বকালে সুখ সূচকে বাংলাদেশ ছিল ৪৬তম যা এখন ১৩৪তম, যা আজ অতীতের স্মৃতি। তিনি বিদেশি আধিপত্যের ঝুঁকি নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিলেন। নতুন প্রজন্ম এখন সেটিকে নতুন আলোয় দেখছে। বাংলাদেশ ফার্স্ট পলিসি তার সময়েই শুরু হয়। নিজেদের অধিকার রক্ষায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় মামলা করতেও পিছপা হননি। তিনি সার্ক ও ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার মতো আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করে তোলেন। তার বৈদেশিক নীতি ছিল রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকেন্দ্রিক।
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম, কঠিনতম এবং সবচেয়ে বৈপরীত্যপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। সামরিক শাসন প্রতিরোধ করেছেন, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, নারী নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করেছেন, দুই-দলীয় রাজনীতির ভারসাম্য গড়েছেন।
খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল কথাই ছিল ‘গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের ক্ষমতায়ন’। তিনি সবসময় বলতেন, ‘ক্ষমতা জনগণের, আর সরকার তার ট্রাস্টি’। তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন। তার সংগ্রাম, ত্যাগ ও দৃঢ়তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক ‘অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। নতুন প্রজন্ম তার জীবন থেকে শেখে কীভাবে আপস না করে নীতিতে অটল থাকা যায়। তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী নন, দেশের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের একটি প্রাতঃস্মরণীয় অধ্যায়। খালেদা জিয়ার সংগ্রাম শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্তর্জাতিক মহলেও তাকে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। বিদেশি গণমাধ্যমে তাকে দক্ষিণ এশিয়ার বিরল নারী নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে লড়াই করেছেন। ইন্দিরা গান্ধী বা বেনজির ভুট্টোর মতোই তিনি নারী নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।
তিনি ছিলেন একমাত্র নেত্রী যিনি ক্ষমতার কাঠামোকে সত্যিকারভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি এক মাত্র যিনি একাধিক আসনে অনেক বার দাঁড়িয়ে এখনো অপরাজিত। যার জন্য সারা দেশের দল মত নির্বিশেষে এখন প্রার্থনা করছে। এই দেশের মানুষ এখন মাত্র দুই ভাবে এক জোট হয়, হাসিনাকে ঠেকাইতে এবং খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য। এরকম ভালোবাসা পাওয়া উপমহাদেশেও বিরল।
তার জীবন কেবল ইতিহাস নয়। এটি এক নেত্রীর অদম্য দৃঢ়তা, সহনশীলতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল দায়বদ্ধতার দলিল। আজ যখন তিনি সিসিইউ-এর বিছানায় নিঃশব্দে লড়াই করছেন, তখনো তার নামে লাখো মানুষ দোয়া করে। কারণ তারা জানে, যে নারী ১৯৭১-এ মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে ভেঙে পড়েননি, ১৯৮১-এ স্বামী হারিয়ে নিঃস্ব হয়েও হাল ছাড়েননি, ১৯৯০-এ একা সামরিক শাসককে হঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেই খালেদা জিয়া এখনো লড়ছেন। এই লড়াই শুধু তার নিজের নয়, এই দেশের গণতন্ত্রের শেষ প্রতিরোধের লড়াই। এই লড়াই শুধু নিজের জন্য না, এইটা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এবং আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের লড়াই। যা শুরু করেছিলেন তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার পূর্ণতা দিয়ে নিজেকে করেছেন—ঐক্যের প্রতীক। তার নাম উচ্চারণ করলেই মানুষ গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখে। এখন পর্যন্ত একজন মানুষ ও পাইনি, যিনি খালেদা জিয়া ছাড়া গণতন্ত্রে উত্তরণের স্বপ্ন দেখছেন। এই অসম্ভব মনের জোর এবং মানুষের প্রার্থনা, স্রষ্টা কি আর একবার শুনবেন না এই আকুতি?
লেখক: কলামিস্ট
