প্রকৌশলী এবং ডিপ্লোমাধারীদের দ্বন্দ্বে সমাধান থেকে কি সরে যাচ্ছি?
সুবাইল বিন আলম
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৪ পিএম
সম্প্রতি বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ছবি।
গত ১৫ মে, ২০২৫ এ প্রথম আলোতে “প্রকৌশল এবং কারিগরী সংস্কার কমিশন কেন নয়?” শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়। কিন্তু সরকার সেই সময় এই ব্যাপারটা পুরোপুরি উপেক্ষা করে। এমনকি এটা ও বলা হয় যে আর মাত্র কয়েক মাস পর নির্বাচন। এখন নতুন ‘ঝামেলা’ নিলে ফল আসবে না। কিন্তু আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার কথা শুনতে বাধ্য হলো, এর মধ্যে আদালতের রায় আসাও শুরু হলো, ডিপ্লোমাধারীরা ও নতুন দাবী নিয়ে আসলো- সরকার ও বাধ্য হয়ে একটা কমিটি দিতে বাধ্য হলো। হ্যা! কমিশন না, কমিটি। এবং এই কমিটি কি এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রস্তুত? শুরুতেই তাদের কাজ স্বন্দিহান যোগায়।
এখন কিছু ইতিহাসে যাই। টেকনোক্রেটদের (এখনকার প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ সহ স্পেশালিস্ট) সাথে বুরোক্রেটদের দ্বন্দের ইতিহাস সেই খ্রিস্টের জন্মের আগে থেকে। সেই দ্বন্দ এতটাই প্রকট হয়ে যায় ১৯৩০ সালে টেকনোক্রেসীদের আন্দোলন করতে হয়। সেই সময় রুজভেল্ট টেকনোক্রেটদের নীতিনির্ধারণীতে নিয়ে আসে। যার ফলাফল আমরা বর্তমান সব আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাতে দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের মতো আমলাতান্ত্রিক নীতিতে চলয়ে নাইজেরিয়া, কেনিয়ার মতো দেশ। তাদের অবস্থাও আমরা বুঝতে পারছি।
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন এই প্রসঙ্গে ইতিহাস টানা হচ্ছে? বাংলাদেশে এই সমস্যার শুরু ও এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই।
২০১৩ সালে দশম গ্রেডকে শুধু মাত্র ডিপ্লোমাধারীদের দিয়ে নিজেরা সেই সময়ে সংবিধান লংঘন করে সমস্যার শুরু। যা পুরাপুরি অরাজকতার মাধ্যমে আদায়। এই ধারা একই সাথে সংবিধানের ১৯, ২৭, ২৯ ধারা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম আইন কনভেনশন ১১১,ইউনিভার্সাল ডিক্লেয়ারেশন অফ হিউম্যান রাইটস (ইউ ডি এইচ আর) এর আর্টিকেল ২১(২), আন্তর্জাতিক কভেনেন্ট অন সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটস (আই সি সি পি আর) আর্টিকেল ২৫(সি) লঙ্ঘন। জনপ্রশাসন কি এই দায় থেকে মুক্ত হতে পারে? এই কমিটিতে জনপ্রশসান মন্ত্রনালয়ের প্রতিনিধি আছে। এবং সেই সময় ডিপ্লোমাধারীদের নামের সাথে ইঞ্জিনিয়ার লেখার সুযোগ দিয়ে তারা শুধু অসন্তোষ না আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং এলায়েন্সের নীতিমালা ভংগ করে। আমাদের আমলারা কখনো কোন দোষ স্বীকার করে না। ভুল স্বীকার না করলে সংশোধন কিভাবে হবে? আমাদের সৌভাগ্য হাসিনা সরকার আর ১ বছর থাকে নায়। থাকলে তারা ডিপ্লোমাধারীদের দুই বছর অভিজ্ঞতা সহযোগে বিএসসি সমমান করার একটা চেষ্টা এই আমলাদের মাধ্যমের কমিটি হয়েছিলো- যা আপাতত বন্ধ আছে, তা হয়ে যেত।দুর্ভাগ্যজনক হলেও বিগত সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা এখনো ক্ষমতায় আছে। এবং এই আমলাতন্ত্রের প্রাধান্য ভাংতে এই সরকার নিদারুন ভাবে ব্যর্থ বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তারা জিম্মি ও।
এখন প্রকৌশলীরা যখন তাদের নিজ ক্ষেত্রে চাকরি পাচ্ছে না, তখন স্বভাবতই তারা বিদেশ যাচ্ছে অথবা সরকারি চাকরিতে যাচ্ছে। কিন্তু এই জিনিস আমাদের আমলাতান্ত্রিক সিস্টেম ঠিক মেনে নিতে পারে নায়। ২০০৭/৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এক পি এস সির কর্মকর্তা সরাসরি স্পেসালাইজডরা জেনারেলে কেন আসবে সেই প্রশ্ন তুলেছিলো। এখন আসুন ডিপ্লোমাদের নতুন করা ৭ দাবীর ৪ নং দাবী” প্রকৌশলীদের কারিগরী ক্যাডার বাদে অন্য নিয়োগ বন্ধসহ প্রকৌশল পেশা পরিবর্তন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন।“ এবং মুখে বলতে শুনলাম “সব প্রকৌশল সেক্টরের প্রধান প্রশাসন ক্যাডার থেকে হতে হবে”। এই দাবী কি তাদের সংশ্লিষ্ট – নাকি অন্য কারো চাওয়া তারা বাস্তবায়নের কাজ করছে? উদাহরন পিডিবির দ্বায়িত্ব একজন সহকারী সচিবের হাতে, চিন্তা করা যায়? আমাদের ২৫ ক্যাডার সার্ভিস চেষ্টা করে ও জনপ্রশাসন ক্যাডার থেকে মুক্ত হতে পারছে না- এই কথাটা বিবেচনায় রাখা উচিত।
এই কমিটি গণপূর্ত সচিবকে প্রধান করে একটা ওয়ার্কিং কমিটি করা হয়েছে। সেই কমিটি দুইপক্ষের কাছে ৪ জন করে কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করতে বলে কিন্তু শর্ত দিয়ে দেয় সরকারি/আধা সরকারি এবং স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের হতে হবে। কেন এই শর্ত? এই গনপূর্তই ১০ম গ্রেডের উপপ্রকৌশলীদের ৯ম গ্রেডে বিসিএস সমমানে প্রমোশন দেয়। জ্বী, বিসিএস সমমান, নন ক্যাডার ও না। আপনারা যারা কষ্ট করে বিসিএস দিলেন, তাদের সমমান। ( স্ক্রীনশট সংযুক্ত)। একজন সিনিয়র কেউ কোন সিদ্ধান্ত নিলে, তার অধীস্তন কেউ কিছু বলতে পারবে ?

ডিপ্লোমাধারীদের প্রস্তাবিত ৪ জনের একজনের নামে সরকারি চাকরিতে থেকেও সরাসরি আন্দোলন এবং টাকা উত্তোলনে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়। যা সরাসরি সরকারী চাকরি আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর একজনের নামে সরকারী চাকরিরত অবস্থায় লীগের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এই ব্যাপারে তদন্ত না করে নেসকোতে যে প্রকৌশলীকে ‘জবা করে’ খুনের হুমকী থেকে এই আন্দোলন, তাকেই পোস্টিং দেয়া হয়েছে।
এই কমিটি ও শেষ না। যখন কোন যুক্তি তর্কেই ডিপ্লোমাধরীরা পেরে উঠছিলো না, তখন সেপ্টেম্বর ১৬ এবং ১৭ তারিখ ডিপ্লোমারা মব তৈরি করে রেল অবরোধ, রাস্তা অবরোধ কর, যার ফলে ১৭ তারিখের মিটিং এ যে প্রেজেন্টেশন দেয়ার কথা ছিলো না দেখে নতুন করে দুই পক্ষের ৩ জন করে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে। যেখানে ২০ জন মিলে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, সেখানে এই ৬ জন কিভাবে সিদ্ধান্ত নিবে? যেখানে রেফারী হওয়ার মতো তৃতীয় পক্ষকেও রাখা হয় নায়। এটা সময়ক্ষেপনের মাধ্যম যা আসলে ডিপ্লোমাধারীদেরই সুযোগ করে দিবে।। সরকার নিজেরা মব নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে বরং মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এটার প্রমান জ্বালানী উপদেষ্টা তার কথাতে বার বার 'ডিগ্রী' প্রকৌশলী বলে সম্বোধন করেছেন। এই সম্বোধন ডিপ্লোমাধারীরা, প্রকৌশলীদের হেয় করার জন্য ব্যবহার করে। এখানে উল্ল্যেখ্য যে কারা কারা মব উস্কাচ্ছে, তাদের পরিচয় কিন্তু প্রকাশ্য। এমন কি যা এই দেশে কোন রাজনৈতিক দল করে নায় – তারা সেই সরকার পতনের হুমকী ও দিয়েছে।
এছাড়া ডিপ্লোমাধারীদের যে সব দাবী যেগুলা আছে- সব কোটা ময়। ডেস্ক আর ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ার আলাদা করা যা বৈশ্বিক প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার এক্টের পরিপন্থী। এই কাজ করলে বিদেশে আমাদের প্রকৌশলীদের স্বীকৃতি হারানোর সম্ভাবনা থাকে। ৫ই আগস্টের পর আর কোন কোটা থাকা উচিতই না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্রেডিট ট্রান্সফারের দাবী- এটা বরং হওয়া উচিত ছিলো নিজেদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় না করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে ভর্তি হতে পারে সেই সুযোগ চাওয়া। নিজেরা আলাদা থেকে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী না বানিয়ে সবার সাথে মিশলে সুযোগ আর ও আসবে এবং বাড়বেও। এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ও বয়সের ব্যাপারে ছাড় দেয়া উচিত।
আমাদের মাদ্রাসার ছাত্ররা যখন সবার সাথে মিশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলাতে আসছে- তাদের থেকে আমরা এখন অনেক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে পাই, তাদের সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারনাও ভেঙ্গে গেছে। তারা কিন্তু কোটা চাচ্ছে না। কিন্তু যদি শুধু ডুয়েট বা নিজেদের জন্য নিরদিষ্ট গন্ডির মধ্যেই থাকেন- এস্কপোজার অনেক কম হবে, অনেক সম্ভাবনা দেখতে পাবে না, নিজেদের বঞ্চিত মনে করতে থাকবে। তাই আলাদা না থেকে সবার মধ্যে মিশতে পারার সুযোগ যদি করে দেয়া যায়, সেটাই হবে আসল সংস্কার। এই কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ ছিলো সিলেবাসের ব্যাপারে গাইড লাইন দেয়া। কিন্তু মুল কমিটিতে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে নেয়া হয় নাই। ওয়ারকিং কমিটিতে দুইজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাও প্রকৌশলীদের পক্ষ থেকে যে ৪ জনের নাম চাওয়া হয়েছিলো সেই সুত্রে। ডিপ্লোমাধারীদের ৫ নং দাবী কারিকুলাম ইংরেজীতে প্রনয়ন। এটা খুবই যুক্তিযুক্ত কিন্তু কিন্তু তার জন্য প্রিরিকুইজিট সেই সিলেবাস উন্নত করা, ল্যাব ফ্যাসিলিটি এবং ভালো শিক্ষক নিশ্চিত করা।এই দাবীটা তারা করে নায়। এবং এই দাবীই এক নং হওয়া উচিত। কেউ যোগ্য হলে আর কখনো কোটা বা দয়া চাইতে হয় না, আর এই দেশে যোগ্য লোক খুব দরকার।
এছাড়া আর ও কিছু প্রস্তাবনা সং্যোগ করা যায় – যেমন ১০ ম গ্রেড উন্মুক্ত- এটা সাংবিধানিক অধিকার, তাই সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ক্রাফট ইন্সট্রাক্টর যাদের পরের গ্রেডে যাওয়ার নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকবে তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমোশন দেয়া। দ্বিতীয় শ্রেনী থেকে প্রথম বা তৃতীয় শ্রেনী থেকে দ্বিতীয় শ্রেনীতে যাওয়া এত সহজ হওয়া উচিত না। আর অবশ্যই কেউ দ্বিতীয় শ্রেনী থেকে প্রথম শ্রেনীতে গেলেও বিসিএস সমমান পাবে না, বরং নন ক্যাডার শ্রেনীভুক্ত হবে। প্রকৌশলী পরিচয়ের ক্ষেত্রে সরকারি গ্যাজেট মানা বাধ্যতামুলক করা উচিত।।কেউ একই সাথে ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারস, বাংলাদেশ (আই ই বি) এবং ইন্সটিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইইঞ্জিনিয়ারস, বাংলাদেশ (আই ডি ই বি) দুইটার মেম্বার হতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলার ২ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ( ইউ জি সি) অনুমোদিত এবং কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের সমতুল্য ছাত্র ছাত্রীদের ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান করতে পারে। বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম উদাহরন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলাকে অবশ্যই আই ই বি লিস্টেড হতে হবে। আইইবির লিস্টেড বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার জন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই বোর্ড অফ এক্রিডেশন অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (বিএ ই টি ই) এর এক্রিডেশন নিতে হবে। বিএ ই টি ই এক্রিডেশন এবং আই ই বির এন লিস্টেড না হলে তাকে কোন ভাবেই ইঞ্জিনিয়ার বলা যাবে না। মান নিয়ন্ত্রনহীন বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলা বন্ধ করতে হবে। এই ব্যাপারে একটা বি এ ই টি ই এবং ইউ জি সি দ্বারা কমিটি করে দেয়া যেতে পারে। প্রকৌশল বিদ্যা একটা সাধনার ব্যাপার।।যেখানে শুধু ছাত্রদের না কয়েক লেয়ারে সবারই মান নিয়ন্ত্রনের দায় বদ্ধতা আছে। আমাদের মুল সমস্যা চাকরির থেকে না, একাডেমিক লেভেলেই শুরু হয়। সব প্রকৌশলী এবং ডিপ্লোমাধারীদের বেসরকারি চাকরির জন্য নুন্যতম বেতন নির্ধারন।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন এই সরকার এখন পর্যন্ত যতগুলা কমিশন করেছে সব যায়গাতেই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বেসরকারি খাতের স্পেশালিস্ট রাখা হতো। নাই ৯৫ শতাংশ চাকরির প্রতিনিধিত্ব করা বেসরকারি খাতের কেউ। এছাড়া এই খাতের আর এক প্রতিনিধি ক্র্যাফট ইন্সট্রাকটর, যারা এই ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বৈষম্যের শিকার, তাদের ও কেউ নাই। তাদের অবিলম্বে যুক্ত করা উচিত।।
ভারত, পাকিস্তান এবংমালয়েশিয়ার উদাহরন সামনে নিয়ে আমাদের প্রকৌশল খাতকে সুসংহত এবং মেধা ভিত্তিক করতে হবে। যেকোনো সমাধান অবশ্যই সংবিধানসম্মত সমতার অধিকার এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আমাদের বিসিএসে কোটা মুক্ত হওয়ার পর যারা নিয়োগ পেয়েছে, তাদের সাথে আগের তুলনা করলেই পার্থক্য বোঝা যায় কোটা কতটা পিছিয়ে দিয়েছিলো এই দেশকে।
ডিপ্লোমা বনাম প্রকৌশলীর দ্বন্দ্ব দীর্ঘায়িত হলে, প্রশাসনিক শক্তি ও রাজনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী এর সুযোগ নিবেই। এতে প্রকৌশল বা কারিগরী খাতের থেকে গোষ্ঠী ভিত্তিক লাভ হবে। এই দ্বন্দ্বকে প্রশাসন নিজেদের ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য এবং টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞদের প্রভাব সীমিত করার জন্য ব্যবহার করবে। যার ভুক্তভোগী হবে সবাই সাথে বাংলাদেশ ও।
বাংলাদেশে সব ক্ষেত্রেই এই স্নাতক এবং ডিপ্লোমাধারীদের সমস্যা বিদ্যমান। সেটা ডাক্তার, কৃষিবিদ, আইন পেশা, স্থাপত্য সহ যেখানে এই বিভাজন আছে, সব জায়গাতেই। আমাদের হওয়া উচিত ছিলো সবাইকে মিলে এগিয়ে যাওয়ার নীতি। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সমস্যা আর ও বাড়িয়ে তোলা হয়েছে এবং এখন মবের কাছে নতি স্বীকার করার দায় আমাদের প্রশাসনিক কাঠামো অস্বীকার করতে পারবে না। এর আগে আমলা নির্ভর ‘জনপ্রশাসন কমিশন’ ভালো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন এই কমিটিও যদি ব্যর্থ হয়, আমাদের প্রকৌশল খাত মেধাশুন্য এবং স্তবির হয়ে থাকবে- যার ফল পরের সরকারকেও ভোগ করতে হবে।
সুবাইল বিন আলম, কলামিস্ট
