তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতির অনিশ্চয়তা দূর হবে
তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের রাজনীতি এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। কিছুদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জাতীয় নির্বাচনের সব কার্যক্রম শুরু করার জন্য বলে। নির্বাচন কমিশনও ইতিমধ্যে নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন দফায় দফায় বৈঠক করে ৮৪ টি বিষয়ে রাজনেতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হওয়ার কথা জানিয়েছে— যদিও কয়েকটি বিষয়ে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে।
ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার শেষ বৈঠক পর্যন্ত নিম্নকক্ষে পিআর নিয়ে কোনো মতামত ৮৪টি বিষয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। হঠাৎ করেই কিছুদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পুনরায় পিআর এর দাবি নিয়ে মাঠ গরম করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে পত্রিকার খবর থেকে জানা যায় তারা ৮ দলের মোর্চা গঠন করছে এনসিপি সহ আন্দোলন করে পিআর, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আদায় করার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে এনসিপি জানিয়েছে তারা এই মোর্চায় নেই।
নতুন করে এই অস্থিরতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য কি?
দেশ এখন নির্বাচনমুখী। এমনকি সদ্য অনুষ্ঠিত হওয়া ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভোট দিয়েছে—যদিও সেই ভোট সঠিক ভাবে গণনা হয়েছে কি না, কিংবা ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রচুর বিতর্ক আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবীর খান সম্প্রতি একটি পত্রিকায় সাক্ষাৎকারে বলেছেন—‘নির্বাচিত সরকার ছাড়া বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থানের উন্নতি হবে না। যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে গেলেই জানতে চাওয়া হয়, সরকারের মেয়াদ কত বছর?’ সম্প্রতি সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্সের সাথে বৈঠকেও তিনি এই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন!
ডাকসু এবং জাকসু নির্বাচনের ফলাফল সুধীমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ডাকসুতে শিবিরের উত্থানে আশ্চর্য হওয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান আছে। শিবির দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পক্ষান্তরে ছাত্রদলের প্রস্তুতি ছিল খুব অল্প সময়ের। কিন্তু তারপরও এই ফলাফল শিবিরকে যথেষ্ট উজ্জ্বীবিত করেছে। জাকসুতে নির্বাচন নিয়ে নাটকীয়তা চরমে ছিল। নির্বাচনি ব্যাবস্থা থেকে শিক্ষক এবং নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, ভোট গণনা নিয়ে অব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি ৫ টি প্যানেলের নির্বাচন বর্জন জাকসু নির্বাচনকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সামনে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আছে।
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গণমানুষ এবং বৃহত্তম দল বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলো যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখন উল্টোপথে হাঁটার চেষ্টা করছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ কতিপয় রাজনৈতিক দল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে নির্বাচন পেছানো অথবা নির্বাচন না করা— যদিও জামায়াত একটা কথা বলে যে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে রেখেছে। জুলাই সনদের বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও ঐকমত্য কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রিয়াজ স্পষ্টতই বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে দেশে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। একটি জাতীয় নির্বাচন এবং নির্বাচিত সরকারের আশু প্রয়োজনীয়তা অন্তর্বর্তী সরকার, গণমানুষ এবং নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দলগুলো খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করছে!
বিএনপি গত ১৭ বছরে চরমভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত একটি রাজনৈতিক দল। বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের এমন কোনো কর্মী নেই যারা নির্যাতনের শিকার হননি। বেগম খালেদা জিয়া প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করার পর থেকে তার ওপর শারীরিক, মানসিক নির্যাতন চরম পর্যায়ে পৌঁছে। একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে উনাকে নির্মমভাবে একটি পরিত্যক্ত জেলে পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে দলের হাল ধরেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
হাসিনার ফ্যাসিজম চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল তখন। বিএনপিকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য এমন কোনো অপকৌশল নেই যা তৎকালীন সরকার গ্রহণ করেনি। এর মধ্যেই নিরলস পরিশ্রম করে তারেক রহমান দলের ঐক্য ধরে রেখেছেন। দলের তৃণমূলে প্রতিনিয়ত কথা বলেছেন। দলের নেতা-নেত্রীদেরকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। প্রত্যন্ত ইউনিয়নের কোনো নেতা বা কর্মী যখনই কোনো বিপদে পড়েছে, প্রতিপক্ষ দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে তখন তাদের পাশে দাঁড়াতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি।
৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টের পলায়নের পর বিএনপির নেতা কর্মীদের কিছুটা ছন্দপতন হয়। নানান ধরনের সত্য-মিথ্যা অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দলকে। দলও Disciplinary Action নিতে কার্পণ্য করছে না। তারপরও জনমনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। জেন-জি দের মধ্যে বিএনপির অবস্থান খুব নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে দলটিকে। যদি কোনো গ্যাপ থাকে তা পূরণ করতে হবে।
বাংলাদেশ সহ এই দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ক্যারিশমার একটি বিশাল প্রভাব আছে। বেগম খালেদা জিয়াকে বলা হতো ক্যারিশম্যাটিক লিডার। গৃহবধূ থেকে তিনি রাজনীতিবিদ হয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে রাজনীতি করে দলকে সর্বোচ্চ সফলতা এনে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। জিয়াউর রহমান একাধারে ২০ থেকে ৩০ মাইল হাঁটতেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করতেন, হাত মেলাতেন তাদের সাথে। রাজনৈতিক ক্লাস নিতেন ছাত্র-ছাত্রীদের। আধুনিক বাংলাদেশের যা কিছু ভালো তার সবকিছুই শুরু হয়েছে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তারেক রহমান ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন শুরু করছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তৃণমূলে পৌঁছাতে চেয়েছেন, জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়াকে অনুসরণ করে।
বর্তমান অস্থির সময়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচন খুব জরুরি। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণও খুব জরুরি। গত ১৭ বছর যেভাবে একতরফা নির্বাচন করে ফ্যাসিস্ট হাসিনা নির্বাচন ব্যাবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে, সেখান থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণ খুব জরুরি। দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি খুব উদার মন নিয়ে সমস্ত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান এখন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সকল নেতা-কর্মী এবং সমর্থক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে উনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং পরিশীলিত ভাষণ জনপরিসরে উনার একটি উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। গণমানুষের এক বিশাল প্রত্যাশা উনি বাংলাদেশে এসে জনগণের মাঝে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্ব গুণাবলীর মাধ্যমে বিএনপির এখনও যে ত্রুটি বিচ্যুতি আছে তা দূর করতে পারবেন বলে আশা করি। তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে অনিশ্চয়তা আছে তা দূরীভূত হবে। তারেক রহমানের শারীরিক উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথে ইতিবাচক পরিবর্তন করবে বলে বিশ্বাস করি। তাই বাংলাদেশের গণমানুষ বলছে— নেতা আপনাকে আমাদের পাশে বড় বেশি প্রয়োজন।
প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন আহমেদ রায়হান
[email protected]

