Logo
Logo
×

অভিমত

টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয়

ঢাকা-ইসলামাবাদে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, উদ্বেগে নয়াদিল্লি

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৬ এএম

ঢাকা-ইসলামাবাদে ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, উদ্বেগে নয়াদিল্লি

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সদ্যসমাপ্ত ঢাকা সফর নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্কের পালাবদল। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের মাঝে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ইসহাক দার বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধান মোহাম্মদ ইউনুস এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকে বাণিজ্য, কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে ভারতকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলবে দারের একান্ত বৈঠকগুলো—যেখানে তিনি জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং শেখ হাসিনার সরকার হটানো আন্দোলনে যুক্ত ছাত্রনেতাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

২০২৬ সালের শুরুর দিকেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা, আর তার আগেই পাকিস্তানের এমন রাজনৈতিক যোগাযোগ এক ধরনের ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল নয়াদিল্লির জন্য নয়, বাংলাদেশের মধ্যেও যাঁরা অতীত ইতিহাসকে স্মরণে রাখেন, তাঁদের জন্যও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ ছিল, তাঁর শাসনামলে ভারত-ঘনিষ্ঠতা বেশি ছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরেই গত ১৫ বছরের ‘দমননীতির’ প্রতিক্রিয়ায় অনেকের ভেতরে ভারত-বিরোধী মনোভাবও গড়ে উঠেছে। তবে যারা এই বিরোধিতা করছেন, তাদেরও ভাবতে হবে—নির্বাচনের আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এমন যোগাযোগ সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দেয়।

জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাসও ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তারা এখনো ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও ধর্ষণের ঘটনার দায়কে পুরোপুরি অস্বীকার করে চলে। যদিও এখনকার বেশিরভাগ বাংলাদেশি ওই মুক্তিযুদ্ধের পর জন্ম, তবুও ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা রুখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে জানাতে হবে—এই নিপীড়নের ইতিহাসকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার পেছনে কী উদ্দেশ্য কাজ করছে।

এদিকে ভারতকেও আর অবহেলা করা চলবে না। বাংলাদেশের ভেতরে যাঁরা প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। হয়তো অতীতের অভিজ্ঞতায় নয়াদিল্লি কিছু দলের প্রতি অবিশ্বাস করে, তবে বাস্তববাদই এখন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বারবার যে কূটনৈতিক বাস্তবতার কথা বলেন, তা এখনই কাজে লাগানোর সময়। কারণ পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি ভারতের নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন