Logo
Logo
×

অভিমত

কাতারস্থ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?

ড. মো. আদনান আরিফ সালিম

ড. মো. আদনান আরিফ সালিম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ০৬:৪০ পিএম

কাতারস্থ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?

ইরানের ভূখণ্ডে সরাসরি মার্কিন বিমানের বোমা নিক্ষেপ দেখে শুরু থেকেই মনে হয়েছিল ইরান এর পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে। প্রবল শক্তিশালী কোনো মানুষও যখন তার থেকে কম শক্তির কাউকে বিনা কারণে চিমটি কাটে তার হাত অভ্যাসবশ উঠে যায় সেই চিমটি প্রতিরোধ করতে। 

যুক্তরাষ্টের পক্ষ থেকে ইরানের মাটিতে হামলা ছিল চিমটি কাটা নয়, বরং রক্তাক্ত এক খামচি দেওয়ার মতো। তারা বিশ্রিভাবে ইরানকে খামচি দিয়েছে। আর তার প্রতিবাদে ২৩ জুন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তীব্র উত্তেজনার সূচনা হয়েছে। ইরান কাতারের দোহা শহরের নিকটস্থ আল উদেইদ মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে অন্তত জানান দিল তারাও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা বারুদের মতো। সে বুঝে গেছে তাকে ধ্বংস হতেই হবে। তাই বৃষ্টিতে ভিজে নেতিয়ে যাওয়ার আগেই যতটা বিষ্ফোরণের শক্তি নিয়ে যতগুলো শত্রুকে খতম করা যায় সেখানেই সাফল্য দেখছে তার। 

এর আগে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তাঁর ভাষণে সুস্পষ্ট বলেছেন ইরানের পদক্ষেপ কী হতে পারে? তিনি এই সময় তিলাওয়াত করেন “ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুবি ওয়াল আবসার, ইয়া মুদাওয়িরাল লাইলি ওয়ান নাহার, ইয়া মুহাববিবাল হাওলি ওয়াল আহওয়াল, হাওয়্যিল হালানা ইলা আহসানিল হাল।”যার অর্থ "হে অন্তরসমূহ ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী, হে রাত ও দিনের পরিবর্তনকারী, হে অবস্থার পরিবর্তনকারী, আমাদের অবস্থার উত্তম পরিবর্তন দিন।"

তারা শুরু থেকেন একটা পবির্তনের কথা জানা দিচ্ছিল। এর থেকে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে যে ইরান শেষ অবধি ময়দানে টিকতে পারুক আর না পারুক তারা লড়বে। শেষ শক্তি দিয়ে হলেও লড়বে্। এমনকি প্রদীপের তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পরে নিভে যাওয়ার  মুহুর্তে যেভাবে জ্বলে ওঠে তারা ঠিক সেভাবেই জ্বলে উঠবে এটা শুরুতে আঁচ করা গিয়েছিল। 

কাতারস্থ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই হামলা আসছে এক নাটকীয় পাল্টা প্রতিক্রিয়ায়—শুক্র ও শনিবার আমেরিকার তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত হামলার পর। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, কাতার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রসমূহ সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। 

তবে কাতার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে তাদের সার্বভৌমত্ব, আকাশসীমা, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতার এই “নির্লজ্জ আগ্রাসনের” উপযুক্ত জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে। আদতে তারা যে কথা বলছে তা অনেকটা মার্কিনী তথা ইজরাইলের মাউথপিস হিসেবেই বলছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয় যে, আল উদেইদ ঘাঁটির বিরুদ্ধে তারা সক্রিয় অভিযান শুরু করেছে এবং অন্তত দশটি ক্ষেপণাস্ত্র এই ঘাঁটির দিকে ছোড়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য হিল-এর এক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষা দপ্তর গভীর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। 

হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন। এই বৈঠকটি মূলত ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানের পরবর্তী ধাপ কী হবে তা নির্ধারণ করতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ইসরায়েল ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক স্থানে তাদের বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। তাদের আক্রমণে ইরানের কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সেটা পরের ব্যাপার। তাতে নিয়মিত প্রাণ যাচ্ছে বেসামরিক মানুষের।  তবে কাতার পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরেছে। তারা তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে দেশটির নাগরিক, বাসিন্দা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। অপরদিকে, দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস কাতারে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতে বলেছে।

তবে ইরানে নতুন এই প্রতি-আক্রমণের এই সংকট শুধু কাতারেই সীমাবদ্ধ নয়। পার্শ্ববর্তী বাহরাইনেও হামলার আশঙ্কায় সাইরেন বেজে উঠে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া বিবৃতিতে জানায়, জনগণকে ধৈর্য ও শান্ত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনে প্রধান সড়কগুলো ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাহরাইনেই অবস্থিত রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদর দপ্তর এবং ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড। চারটি মাইন-বিরোধী জাহাজ, দুটি লজিস্টিক সহায়তা জাহাজ এবং মার্কিন কোস্ট গার্ডের একাধিক জাহাজ এখানেই নোঙর করে রাখা হয়েছে।

নতুন সৃষ্ট এই জটিল পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনাকে সামনে এনে দিয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, কাতার এবং ইসরায়েল—সব পক্ষই এক সুতোয় বাঁধা, তবে প্রতিটি সুতোর টান যেন ধ্বংসের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে বিশ্বকে।

কাতারের রাজধানী দোহা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মরুভূমির বুকে ছায়ার মতো বিস্তৃত আল উদায়েদ বিমানঘাঁটি—মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রাণকেন্দ্র। এই ঘাঁটি শুধু একটি সামরিক স্থাপনা নয়, বরং এটি হচ্ছে মার্কিন ভূরাজনৈতিক দাপটের এক জীবন্ত প্রতীক, যেখান থেকে পশ্চিমের মিশর থেকে শুরু করে পুবের কাজাখস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয়ের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হয়।

উদায়েদ তথা উদেইদ হলো মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সৈন্য সদা প্রস্তুত থাকে—যেন এশিয়া ও আফ্রিকার সন্ধিক্ষণে একটি চালাকিপূর্ণ মোহনায় এক সুপরিকল্পিত কৌশলের বাস্তবায়ন।

ঘাঁটিটির আরেকটি পরিচয় রয়েছে—এটি কাতারের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীর অংশ, 'আল-আমিরি এয়ার ফোর্স' তথা কাতার বিমান বাহিনীর একটি প্রধান ঘাঁটি। ১৯৯৬ সালে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে এই ঘাঁটির প্রতিষ্ঠা হয়। 

একদিকে স্বাধীন রাষ্ট্র কাতার, অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক শক্তির প্রতিচ্ছবি যুক্তরাষ্ট্র—এই দুইয়ের এমন সম্পর্ক এক অদ্ভুত অসামঞ্জস্য বহন করে, যা সার্বভৌমত্বের ভাবনায় এক রকমের গোপন অপমানও বটে। কারণ, এই ঘাঁটি যতটা না কাতারের সুরক্ষার জন্য, তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষার কৌশলগত এক অগ্রগামী ঘুঁটি।

তবু, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হঠাৎ সংঘর্ষ বা রাজনৈতিক টানাপড়েনে কাতার এই চুক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারবে—এই ভাবনা কেবল কল্পনার বালুকাবেলায়ই দাঁড়াতে পারে। কারণ, এত দীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা কূটনৈতিক নির্ভরতা এবং নিরাপত্তার নামে প্রাসাদতুল্য সামরিক উপস্থিতির বন্ধন থেকে নিজেকে ছিঁড়ে বেরিয়ে আসা ছোট রাষ্ট্র কাতারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

আর তাই, যখন ইরান আল উদায়েদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, তখন কাগজে-কলমে সেটি 'মার্কিন সামরিক ঘাঁটি'তে হামলা হিসেবে রেকর্ড হয়, কিন্তু বাস্তবতায় সেটি কাতারের মাটি ছুঁয়ে বিস্ফোরিত হয়। সেখানে যদি কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়, প্রাণহানি ঘটে, ধ্বংস হয় অবকাঠামো—তাহলে তার শিকার হবে এই ভূখণ্ডের নিরীহ মানুষজনই। 

মধপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন ও নিরীহ মানুষ হত্যার ব্যাপরে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া কাতার এখন যেন এক নিঃশব্দ অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত—একদিকে আন্তর্জাতিক জোটের বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নিজের সার্বভৌম মর্যাদা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। আর সেই দ্বিধার মধ্যেই আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা, মাটিতে আশঙ্কার সুর, আর ভবিষ্যতের প্রশ্নচিহ্নগুলো জেগে আছে—রক্তাক্ত সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায়।

এই অবস্থান থেকে বললে, ইরানের উপর পরিচালিত অন্যায়, বর্বরোচিত এবং প্ররোচনামূলক হামলার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেওয়া ইরানের স্বাভাবিক অধিকার—এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু সেই জবাব যদি কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে আসে, তবে তাকে আর প্রতিরোধ হিসেবে দেখা হবে না কাগজে কলমে। আর যুক্তরাষ্ট্র উসকানিমূলক হামলা করে ইরানকে দিয়ে এমন কিছু একটাই করাতে চেয়েছিল। 

ইরান যে আল উদায়েদ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, সেটি কৌশলগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি হলেও বাস্তবতা হলো—সেই আঘাত লেগেছে কাতারের মাটিতে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের একটি স্থিতিশীল ভূখণ্ড নতুন করে অস্থিরতায় টালমাটাল হয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইবে মার্কিনিদের পাশাপাশি তাদের মিত্ররা। 

ইরানের পক্ষ থেকে এই জবাব যদি সরাসরি ইসরায়েলের উপর বিস্তৃত ও সুসংগঠিত হামলা হতো—তবে হয়তো তা ন্যায়সংগত প্রতিরোধ হিসেবে ইতিহাসে রেকর্ড হতো। কিন্তু কাতারের মতো কথিত একটি মুসলিম রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি করতে দিলে এতোদিন যাদের সমস্যা হয় নাই। এখন হামলা হতে দেখে তারাও নাকি কান্না জুড়েছে। 

বাংলাদেশের পেট্রোডলারখোর মুফতিদের অনেকেই মিসাইলের বেগে ফতোয়া মারা শুরু করবেন নিশ্চিত করে। তারা কান্নাকাটি জুড়ে দিয়ে বলবে কাতারে লাখো প্রবাসী আছেন। কমবেশি তিন লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বাস করে। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে বলবে নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের আশায় সেখানে যারা বসবাস করছেন তাদের কাছে ইরানের এমন হামলা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাদের এই আবেগ যতটা না মানবতার টান থেকে, তার থেকে বেশি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মোসাহেবি। 

নিঃসন্দেহে ইরানের উপর পরিচালিত মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণ যে ছিল একটি জঘন্য নির্মমতা এবং পরিষ্কার মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। এতে কারও কোনো দ্বিমত থাকার সুযোগ নেই। তাই ইরানের প্রতিটি ন্যায্য জবাবে বিশ্ববাসীর সমর্থন থাকার কথা। তাদের নিক্ষিপ্ত প্রতিটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র, প্রতিটি প্রতিরোধী উচ্চারণেই মুক্তিকামী মানুষের অন্তরের উল্লাস থাকাটা হবে স্বাভাবিক। কিন্তু এর বাইরে অনেকেই শিয়া-সুন্নি তুলে কথা বলতে চেষ্টা করছে। তারা আদতে শিয়াও না সুন্নিও না। এরা ইসলামী লেবাছে মুড়ে থাকা জায়োনিস্ট। পেট্রোডলারখোর এসব মুফতি নামধারী মুফত মুনাফেকের মুখে ইসলাম অন্তরে ইজরাইল। 

বিশ্বের নানা দেশের মতো বাংলাদেশের আলখেল্লা পরা জায়নবাদীরা ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইজরাইলের পোষা কুকুর হিসেবে কুঁইকুঁই শুরু করেছে। তারা বলতে চেষ্টা করছে ইরানের নিজস্ব রাজনৈতিক চরিত্রও প্রশ্নবিদ্ধ। তাই তারা ইজরাইল – যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত আগ্রাসন আর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধী হামলা রুখে দাঁড়ানো সাহসী রাষ্ট্র হিসেবে ইরানকে স্বীকৃতি দিতে চায় না। তারা ভিক্টিম ব্লেমিং এর নতুন পথ হিসেবে ইরানের নিজের ভেতরে এবং সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর উপর চলমান কথিত দমন-পীড়ন চালানো একটি সাম্প্রদায়িক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার অপতৎপরতায় লিপ্ত। 

পেট্রোডলারখোর এমন আলখেলা পরা জায়োনিস্টরা ফিলিস্তিন গণহত্যার সময় নীরব থাকে। কিন্তু আহওয়াজ অঞ্চলের সুন্নি জনগণের দুঃসহ নির্যাতনের মার্কিনী-ইজরাইলি গল্পগুলোকে তারা মসজিদের মিম্বারে বসে উচ্চারণ করছে নিয়মিত। পাশাপাশি বিরোধী কণ্ঠের উপর নির্মম জুলুম, কিংবা সিরিয়া ও ইরাকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস থেকে মার খাওয়া কুকুরের মতো কান্না জুড়ে দিয়েছে এরা। 

নামে মুসলিম এমনকি পরিচয়ের দিক থেকে মুফতি হলেও অনেকে তার পায়জামা খুলে দেখিয়ে দিচ্ছে জাঙ্গিয়ার বুক পকেটে লুকিয়ে রাখা ইজরাইল-মার্কিনীদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রেমপত্র। তারা লাজলজ্জার মাথা খেয়ে সেখানে লিখে রেখেছে  ‘ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি নয়, বরং আধিপত্য চায়। এক অর্থে বলা চলে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের 'ভারত'—যে প্রতিবেশীর শান্তি, সম্মান ও স্বাধীনতা কখনোই সহ্য করতে পারে না। এমনকি শিয়া রাষ্ট্র হিসেবে তার অস্তিত্ব নয়, বরং সাম্প্রদায়িক চেতনায় পরিচালিত এক শাসনতন্ত্রই সমস্যার মূল’।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটা পাল্টা জবাব। এই হামলা কোনোভাবেই কাতারে হয়নি, হয়েছে কাতারস্থ মার্কিন ঘাঁটিতে। পাশাপাশি ইরান এই হামলার আগে কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছিল এবং খালি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছিল—যা এক ধরনের কৌশলগত সতর্কতা।

তাই হয়তো এই হামলা একদম অপ্রত্যাশিত নয়, বরং একটি সাজানো পাল্টা আঘাত ছিল। কিন্তু এই নাটকের পরবর্তী দৃশ্য কী হতে যাচ্ছে, সেটাই এখন গোটা অঞ্চলের জন্য চিন্তার বিষয়। তবে দ্রুতই মধ্যপ্রাচ্য যে আরও অশান্ত হবে এবং ইরান কোনোভাবেই ফিলিস্তিনের মতো একতরফা মার খাবে না সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। অন্যদিকে ইরানের কৌশলগত মিত্র হিসেব রাশিয়া, চীন কিংবা উত্তর কোরিয়া যদি সাহায্যের হাত বাড়ায় তাহলে এই লড়াই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বছরের পর বছর স্থায়ী হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। -

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন