ট্রাম্প কি ফ্যাসিস্ট? না, তিনি এক চরম পুঁজিবাদের প্রচারক
সান্তিয়াগো সাবালা এবং ক্লাউদিও গাল্লো
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৫, ১১:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা আমেরিকানদের পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অভিবাসী বিরোধী নীতিমালা, ফিলিস্তিনপন্থী বৈধ অভিবাসীদের নিপীড়ন, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ ধ্বংস, উচ্চশিক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত—এসবই তার কর্মকাণ্ডের তালিকায়। ফলে দেশে-বিদেশে অনেকে তাকে ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করছেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ফ্যাসিবাদ ট্রাম্পের বেছে নেওয়া মতাদর্শ নয়। ঐতিহাসিকভাবে ফ্যাসিবাদ জাতির মঙ্গলের কথা বলে রাষ্ট্রকে সমাজ ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক রূপে তুলে ধরে। তবে ট্রাম্প যে আদর্শে বিশ্বাস করেন, তা একধরনের অবাধ পুঁজিবাদ বা হাইপারক্যাপিটালিজম, যেখানে ধনীদের সম্পদ অর্জনে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের শিবিরের প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা এই পুঁজিবাদকে প্রযুক্তির মোড়কে পেশ করছেন। তাঁরা বলছেন, প্রযুক্তিই সব সমস্যার সমাধান এবং সীমাহীন প্রবৃদ্ধিই (অর্থাৎ, ধনীদের জন্য সীমাহীন লাভ) প্রকৃত অগ্রগতি।
সিলিকন ভ্যালির কোটিপতি মার্ক আন্দ্রেসেনের লেখা Techno-Optimist Manifesto-তে এই মতাদর্শ স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছে, “প্রযুক্তির মাধ্যমেই সব সমাধান সম্ভব, প্রকৃতি বা মানুষের তৈরি যেকোনো সমস্যা মোকাবেলায়।”
এই দর্শন একদিকে যেমন চূড়ান্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক, তেমনি মানবতার উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পক্ষে। অথচ ঐতিহাসিক ফ্যাসিবাদ ব্যক্তি নয়, জাতি ও গোষ্ঠীকেই সর্বাগ্রে রাখত।
অনেকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি দেখে তাকে রাষ্ট্রপন্থী ভাবতে পারেন, কিন্তু বাস্তবে সেগুলো বড় পুঁজির স্বার্থে তৈরি একপ্রকার চাপে ফেলা কৌশল। এই নীতির লক্ষ্য আমেরিকান শ্রমিকের অধিকারের রক্ষা নয়, বরং বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে সুবিধা আদায়।
ট্রাম্পের বর্ণবাদী ও অভিবাসীবিরোধী ভাষা সত্যিই ফ্যাসিবাদী আবহ তৈরি করে, কিন্তু এগুলো আসলে জনগণের ক্ষোভকে বিভ্রান্ত করার হাতিয়ার—যাতে ক্ষোভের লক্ষ্য হয় অভিবাসীরা, ধনী শ্রেণি নয়।
ইউরোপের কিছু পোস্ট-ফ্যাসিস্ট নেতা যেমন ইতালির জর্জিয়া মেলোনিও এখন উন্মুক্ত বাজারনীতিকে গ্রহণ করেছেন। ফলে ট্রাম্পের মতো তাদেরও মূল লক্ষ্য সমাজকল্যাণ ছেঁটে ধনীদের করছাড় দেওয়া।
বামপন্থী রাজনীতিবিদেরা যদি কেবল “ফ্যাসিস্ট” তকমা লাগিয়ে ট্রাম্পকে ঘায়েল করতে চান, তাহলে তারা ব্যর্থ হবেন। বরং প্রয়োজন বাস্তবসম্মত বিকল্প উপস্থাপন, যা সাধারণ মানুষের চাকরি, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক হতাশা দূর করতে পারে।
ট্রাম্পকে শুধু উন্মোচন নয়, প্রতিস্থাপন করতে হবে—একটি জনগণের পক্ষে শক্তিশালী, ইতিবাচক রাজনৈতিক রূপরেখা দিয়ে।
