যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ইসরায়েল ইরানে ফের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল রবিবার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে এই তথ্য ফাঁস করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই এই প্রস্তুতির খবর এল। এর মাত্র একদিন আগে ইসলামাবাদে স্থায়ীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
গতকাল রবিবার সকালেই ওয়াইনেট নিউজ সাইট জানিয়েছিল, আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির সামরিক বাহিনীকে ‘উচ্চ সতর্কতায়’ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইরানের সঙ্গে পুনরায় লড়াই শুরুর প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। এরপর সন্ধ্যায় চ্যানেল ১২ নিউজ কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ না করেই জানায়, আইডিএফ কেবল ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে না, বরং ইসরায়েলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য আকস্মিক হামলার মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এক ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, ‘ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী।’ কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত শেষ হয়ে গেছে এবং পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইরানের ওপর যথেষ্ট চাপ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। সিদ্ধান্ত আসামাত্রই ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হেনে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে চাপ সৃষ্টি করবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। চ্যানেল ১৩-ও একইভাবে জানিয়েছে, আইডিএফ-এর সতর্কতার মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বাড়ানো হয়েছে। জামির সামরিক বাহিনীকে ‘অবিলম্বে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিতে এবং কমব্যাট রেডিনেস প্রসিডিউর বা লড়াইয়ের প্রস্তুতি প্রক্রিয়া শুরু করার’ নির্দেশ দিয়েছেন।
আইডিএফ এসব প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবানন সফরের সময় জামির বলেছিলেন, সামরিক বাহিনী ‘যেকোনো মুহূর্তে প্রয়োজনে পূর্ণ শক্তি নিয়ে ইরানে লড়াইয়ে ফিরতে প্রস্তুত।’

