Logo
Logo
×

সংবাদ

নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

Icon

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে বের হওয়া শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। গতকাল রবিবার বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের বিভিন্ন কর্মসূচি বিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নাম (শোভাযাত্রা) নিয়ে একটা বিতর্ক, আমরা এই বিতর্কের অবসান করতে চাই। আমরা আজকের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এটাকে আমরা ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ও বলব না, ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ও বলব না। শোভাযাত্রা হবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে; এখানে সমস্ত সাংস্কৃতির প্রদর্শন থাকবে। যার যার মতো ঢোল-বাদ্য পোশাক-আশাক নিয়ে একটা আনন্দঘন শোভাযাত্রা হবে। এই শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। বৈশাখী মেলা, বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখী আনন্দ—যা কিছু, সবকিছুতে আমরা বৈশাখকে প্রাধান্য দিতে চাই। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে একটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব লক্ষ করা যাচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখ, ১৯৮৯ সালের এরশাদের আমলে এ শোভাযাত্রাটি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে চালু হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আসার পর তারা আনন্দ বাদ দিয়ে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে আবার এটার নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করে। এখন কেউ বলছে, শোভাযাত্রার নাম আনন্দই থাকতে হবে, আবার কেউ বলছে মঙ্গল হতে হবে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জনগণ, জাতি ও দেশের কাছে এ সরকারের দায়বদ্ধ। আমরা চাই, অতীতের যা কিছু গ্লানি, সেটা নিয়ে তো আমরা আছিই, সেটা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। কিন্তু, আমরা আমাদের দেশে, সমাজে বিভাজন চাই না; মানুষের মাঝে অনৈক্য, সংঘাত—এগুলো আমরা চাই না। আমরা বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য চাই। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন আদর্শের বিভিন্ন ভাবনার লোক থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের লোকও থাকবে। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।

নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করায় ইউনেস্কোর স্বীকৃতির ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে কিনা— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমরা কি ইউনেস্কো দ্বারা পরিচালিত সরকার বা দেশ নাকি? যখন নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল, যখন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ছিল, তখনও ইউনেস্কো ছিল। আমরা তাদের জানিয়ে দেব যে আমাদের দেশে এখন থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হবে, এটাই আমাদের ঐতিহ্য।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, শোভাযাত্রার নামে ইউনেস্কো কোনো স্বীকৃতি দেয়নি, তারা দিয়েছে বৈশাখের উৎসবের ওপরে; তারা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে। আমাদের সাংস্কৃতি কি শোভাযাত্রা শুধু? নানান ব্যাপার আছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন