কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করে বিক্রি: দুই ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ গ্রেপ্তার ৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কবর থেকে কঙ্কাল চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগে দুই ডেন্টাল শিক্ষার্থীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ এলাকা ও উত্তরা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) এবং একই কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)।
ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, রমজান শুরুর পর থেকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ খবর পায় তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়ায় মানব কঙ্কাল বিক্রির চেষ্টা হচ্ছে। সেখানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনক চলাফেরা করায় কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী (৩২) নামে আরও দুজনকে দুটি মানব কঙ্কালসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আবুল কালামের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে কঙ্কাল উত্তোলনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল। এছাড়া মাদকসহ মানব কঙ্কাল উত্তোলন ও চুরির ঘটনায় বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মোট ২১টি মামলা রয়েছে। আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরার পশ্চিম থানার ৯ নম্বর সেক্টরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলের একটি কক্ষে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা আরও ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সাল আহম্মেদকে আটক করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানান, “বোনস সেলিং” নামে তাঁদের একটি অনলাইন গ্রুপ রয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন এ কাজে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গত কয়েক বছর ধরে এই চক্র কবর থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, চক্রের সদস্যরা গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর অঞ্চলের বিভিন্ন অরক্ষিত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করত। মাঠপর্যায় থেকে তারা ৬ থেকে ৮ হাজার টাকায় কঙ্কাল সংগ্রহ করে পরে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত।
লাশ কবর দেওয়ার প্রায় এক বছর পর তারা কবর পর্যবেক্ষণ করে কঙ্কাল তুলে আনত। পরে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করে সেগুলো শিক্ষার্থী ও ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
ডিসি ইবনে মিজান জানান, গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নেওয়া হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কোনো পরিবার যদি তাঁদের স্বজনের লাশ চুরি হওয়ার অভিযোগ করেন, তাহলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

