Logo
Logo
×

সংবাদ

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধর করে থানায় দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রশক্তির বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে মারধর করে থানায় দেওয়ার অভিযোগ ছাত্রশক্তির বিরুদ্ধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মারধর করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।  আজ সোমবার ভোরে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেহরি খাওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলে গিয়েছিলেন। সেখানে হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন তাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেন।

পাভেলের দাবি, মারধরের সময় তিনি বারবার বলেন, তার কোনো অপরাধ থাকলে পুলিশের কাছে তুলে দিতে। কিন্তু তার কথা না শুনে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে পলাশীতে নিয়ে গিয়ে আবার মারধর করা হয়। সেখান থেকে মোটরসাইকেলে করে উপাচার্য চত্বরে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তাকে শাহবাগ থানার সামনে রেখে চলে যায়। পরে পুলিশ তাকে আটক করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মারধরের সময় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে ‘ছাত্রলীগের কর্মী’ সন্দেহে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তিনি জানান, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

এ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামসহ আরও কয়েকজন। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সেহরির সময় তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তিনি থানার হেফাজতে আছেন এবং অসুস্থ থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিতে শাহবাগ থানাকে রিকোয়েস্ট করেছি। আমরা তার খোঁজ খবর রাখছি। 

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন