হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ সম্পন্ন হয়নি, কৃষকের উদ্বেগ
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ সময়মতো সম্পন্ন না হওয়া একটি পুনরাবৃত্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি হিসাবে ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার দাবি করা হলেও স্থানীয় কৃষক ও আন্দোলনকারীরা বলছেন, প্রকৃত অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানগত অমিল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অতীতে ফসলহানির অভিজ্ঞতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ বর্তমান বিলম্বকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
২০১৭ সালের ভয়াবহ ফসলডুবির পর ঠিকাদারি প্রথা বাতিল করে কৃষকদের অংশগ্রহণে পিআইসি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্যসচিব হিসেবে কাবিটা মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে প্রকল্প তদারকি করেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও ও এসও কমিটিতে যুক্ত থাকেন। তবে নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষক ও সংলগ্ন জমির মালিককে অন্তর্ভুক্ত করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা থাকলেও কার্যত ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। ফলে সময়সীমা রক্ষা সম্ভব হয়নি। সময় বাড়ানোর জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পরিদর্শনে এসে দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ দেন। একই সময়ে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলও অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
যেসব বাঁধের কাজ শেষ হয়নি
শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওরের ৮৪, ৮৫, ৮৬, ৮৭, ১১৮, ১১৯, ১২২, ১৭১ ও ১৭০ নম্বর প্রকল্পে এখনো কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। মাটির কাজ বাকি রয়েছে এবং দুর্বাঘাস রোপণও হয়নি।
এ ছাড়া কিছু প্রকল্পে কাজই শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
উথারিয়া এলাকায় অক্ষত বাঁধে প্রায় দুই কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ছায়ার হাওরের ৩৩ নম্বর প্রকল্পে বৃহষ্পতি দাসকে পিআইসি দেওয়া হয়েছে, অথচ সেখানে তার জমি নেই। ৭০ নম্বর প্রকল্পের রাজেন্দ্র দাস ও সভাপতি প্রদীপ চন্দ্র দাসেরও হাওরে জমি নেই। ৫১ নম্বর প্রকল্পে সুজন চৌধুরীর বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা, অথচ পাশের ৫২ নম্বর প্রকল্পে প্রায় ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান এবং হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেনরায় অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পিআইসি গঠনে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, কাজ ৭৬ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং ক্লোজারের ১৬ শতাংশ বাকি। ইউএনও পিয়াস চন্দ্র দাস বিল ছাড়ে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে ১০ মার্চের মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো ও যথাযথভাবে কাজ শেষ না হলে হাওরের ফসল ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

