যুবলীগ নেতা সম্রাটের অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় আজ
যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার রায় বুধবার ঘোষণা করা হবে।
ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক জাকারিয়া হোসেন এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ। সেদিন দুদকের পক্ষে কৌঁসুলি নুরে আলম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সম্রাট পলাতক থাকায় তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ হয়নি।
২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তিনিই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা।
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সম্রাট আত্মগোপনে চলে যান।
ওই বছর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে র্যাব সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন বিকেলে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে কাকরাইলের ভূইয়া ট্রেড সেন্টারে তার কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অভিযানের পর র্যাব জানায়, সেখান থেকে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং ‘নির্যাতন করার’ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ঢাকার রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা করা হয়।
২০২২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১১ মের মধ্যে চারটি মামলায় তিনি জামিন পান। কারাগারে যাওয়ার ৩১ মাস পর তার মুক্তি হয়।
২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের ১৭ জুলাই সম্রাটের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ২ ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ২১ জন সাক্ষীর সবার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অস্ত্র মামলায় সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

