Logo
Logo
×

সংবাদ

মেক্সিকোর প্রভাবশালী অপরাধ চক্রগুলোর প্রধানকে হত্যা, দেশজুড়ে সহিংসতা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম

মেক্সিকোর প্রভাবশালী অপরাধ চক্রগুলোর  প্রধানকে হত্যা, দেশজুড়ে সহিংসতা

মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনী দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী অপরাধ চক্রগুলোর একটির প্রধানকে হত্যা করেছে। তার নাম নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সেরভান্তেস, যাকে সবাই ‘এল মেনচো’ নামে চিনত। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় জলিসকো অঙ্গরাজ্যে।

মেক্সিকোর জাতীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, রবিবার জলিসকোর তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি আহত হন। পরে তাকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। যুক্তরাষ্ট্র তার মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার।

এই অভিযানের পর সশস্ত্র হামলাকারীরা গাড়িতে আগুন দেয় এবং বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে। জলিসকো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাসসহ অন্তত ছয়টির বেশি অঙ্গরাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

জলিসকোর রাজধানী গুয়াদালাহারা, যেখানে সামনে ফিফা বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ হওয়ার কথা, রোববার রাতে প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুয়াদালাহারা বিমানবন্দরে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াচ্ছে। পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তার আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

জলিসকোর গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে বলেন এবং গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে সোমবার স্কুলও বন্ধ রাখা হয়।

প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যের সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। দেশের বেশিরভাগ জায়গায় স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে।’

৫৯ বছর বয়সী ওসেগেরা ২০০৭ সালের দিকে জলিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল গঠন করেন। এফবিআইয়ের মতে, এটি মেক্সিকোর সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক পাচার চক্রে পরিণত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা কোকেইন, হেরোইন, মেথামফেটামিন ও ফেন্টানিলের বড় অংশের জন্য তারা দায়ী।

তিনি ছিলেন এই কার্টেলের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রধান’। তার মৃত্যু নতুন ক্ষমতার লড়াই উসকে দিতে পারে। তার ভাই, ছেলে ‘এল মেনচিটো’ এবং মেয়েও কারাগারে। ফলে কার্টেলের ভেতরে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে, যেমনটি ‘এল চাপো’ গ্রেপ্তারের পর সিনালোয়া কার্টেলে হয়েছিল।

বিশ্লেষক মাইক ভিজিল বলেন, শুধু প্রধানকে হত্যা করলেই হবে না। কার্টেলের অর্থ, অস্ত্র ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে দ্রুত ও কার্যকরভাবে। না হলে সহিংসতার ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে লক্ষাধিক অস্ত্র মেক্সিকোতে ঢোকে, অথচ মেক্সিকোতে বছরে মাত্র ৬৫০০ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের চাহিদা কমানোর উদ্যোগও নেই। তার ভাষায়, ‘চাহিদা না থাকলে কার্টেলও থাকবে না।’

সূত্র: আল জাজিরা

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন