সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ১৭ বছর পর রায়, চার আসামিকে যাবজ্জীবন
কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ১৭ বছর পর রায় দিয়েছে আদালত। চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান রোববার এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলেন শহিদুল ইসলাম (২৩), সাইফুল ইসলাম (২৫), নিজাম (২৪) এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু (২৬)।
সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম জর্জ সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
চার আসামির মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। রায় ঘোষণার পর সাজার পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই তরুণী তার এক বান্ধবীকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ এলাকায় ময়দার মিলের পাশের নৌকাঘাটসংলগ্ন বেড়িবাঁধে ঘুরতে যান। একসময় বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় ফিরে যায়।
বান্ধবী চলে যাওয়ার পর পৌনে ৭টার দিকে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোর করে একটি নৌকায় তোলে। পরে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে মাঝিকে নদীতে ফেলে দেয়। এরপর নৌকার ভেতর পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর আসামিরা তাকে একটি বাড়ির কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে।
খবর পেয়ে তার বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার চিকিৎসা হয়। পরে তিনি নিজেই থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম শিকদার চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে।
বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল আজ এই রায় ঘোষণা করেছে।

