Logo
Logo
×

সংবাদ

রক্তে লেখা একুশ, শ্রদ্ধায় ভাসে শহীদ মিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৮ এএম

রক্তে লেখা একুশ, শ্রদ্ধায় ভাসে শহীদ মিনার

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে তারা শহীদদের স্মরণ করছেন। অনেকের পরনে একুশের প্রতীক সাদা–কালো পোশাক। ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনারের বেদি।

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। তা সাহ্‌রির আগ পর্যন্ত চলে। সাহ্‌রি শেষে শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতফেরির মাধ্যমে আবারও মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

ছোট্ট শিশুকে নিয়েও অনেকে উপস্থিত হয়েছেন। কারও হাতে শ্রদ্ধার ফুল, শিশুর হাতে উড়ছে লাল-সবুজ পতাকা। বিভিন্ন ভাষার বর্ণ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়েও অনেককে দেখা গেছে।

প্রভাতফেরিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন ও সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ প্রমুখও শ্রদ্ধা জানান।

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১-দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা জানান।

মহান শহীদ দিবস ঘিরে ভাষার মর্যাদা নিয়ে আলোচনা বাড়লেও বাস্তবে ভাষাদক্ষতার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজিতে প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, ‘ভাষাদক্ষতা সুযোগের দরজা খুলে দেয়। ভাষায় দুর্বলতা মানে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া।’ তার মতে, প্রাথমিক স্তর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। 


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন