Logo
Logo
×

সংবাদ

আজ চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির সাত বছর

৭১ হত্যার বিচার হয়নি আজও

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ পিএম

আজ চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির সাত বছর

ওই ভবন থেকে আগুন লেগে রাস্তার যানজটে ছড়িয়ে পড়ে

২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। সেই ঘটনায় করা মামলার বিচার এখনো কার্যত এগোয়নি।

ঘটনার সাত বছর পেরিয়েছে। বিচার শুরু হয়েছে তিন বছর আগে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে মাত্র ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া গেছে।

কবে বিচার শেষ হবে, তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আশ্বাস দিচ্ছেন। স্বজন হারানো মানুষ বিচার চান। আসামিপক্ষও বলছে, বিচার শেষ হোক, তবে তা যেন ‘ন্যায়বিচার’ হয়।

সেদিন চুড়িহাট্টা মোড়ের কাছে চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ভবনে। ভবনগুলো গায়ে গায়ে লাগানো ছিল। সেখানে রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিক ও পারফিউমের দোকান-গুদাম ছিল। মুহূর্তেই এলাকা অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে ৬৭টি পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।

নিহত জুম্মনের ছেলে মো. আসিফ আহমেদ চকবাজার মডেল থানায় মামলা করেন। অভিযোগ, ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের দুই ছেলে অবৈধভাবে দাহ্য পদার্থ মজুতের জন্য ভবন ভাড়া দিয়েছিলেন।

২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কাইউম ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। আসামিরা হলেন হাসান সুলতান, হোসেন সুলতান, ইমতিয়াজ আহমেদ, মোজাম্মেল ইকবাল, মোজাফফর উদ্দিন, জাওয়াদ আতিক, মোহাম্মদ নাবিল ও মোহাম্মদ কাশিফ।

হাসান ও হোসেন ভবনের মালিক। অন্যরা পার্ল ইন্টারন্যাশনালের মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও কর্মী। অভিযোগ, পার্লের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত।

ফায়ার সার্ভিস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় বিপুল পরিমাণ বডি স্প্রে, অ্যারোসল ও গ্যাস লাইটারের ফুয়েল ছিল। পলিব্যাগ সিল মেশিনের তাপ বা বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

পুলিশ ৪৯টি আলামত জব্দ করে। সিআইডির পরীক্ষায় সুগন্ধির নমুনায় উচ্চমাত্রার দাহ্য রাসায়নিক পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বর্তমানে বিচার চলছে ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ খোরশেদ আলমের আদালতে। ১৬৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

বাদী আসিফ আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. মোস্তফা পাঠান বলেছেন, তার মক্কেলরাও ক্ষতিগ্রস্ত।

চকবাজারে প্রসাধনীর বড় বাজার রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ওয়াহেদ ম্যানশনে সুগন্ধি তৈরি হত। তবে নকল পণ্য তৈরির অভিযোগ অভিযোগপত্রে নেই।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন