ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর গ্রেপ্তারের পর ছাড়া পেলেন
ব্রিটেনের রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, তিনি সরকারি গোপন নথি জেফ্রি এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
৬৬ বছরে পা দেওয়া অ্যান্ড্রুকে সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন থেমস ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দারা। এর আগে পুলিশ জানায়, বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করার সময় তিনি প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী এপস্টিনকে নথি পাঠিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আধুনিক সময়ে সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারীর এমন গ্রেপ্তার নজিরবিহীন। রাজা চার্লস বিবৃতিতে বলেন, ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে ঘিরে দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহের খবর গভীর উদ্বেগের সঙ্গে জেনেছি।’
রয়টার্সের এক আলোকচিত্রে দেখা যায়, মুক্তির পর গাড়ির ভেতরে বসে তিনি দৃশ্যত বিচলিত। থেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, তাকে ‘তদন্তাধীন অবস্থায়’ মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
রাজপ্রাসাদ আগাম জানত না। তবু রাজা বলেন, কর্তৃপক্ষকে পরিবারের ‘পূর্ণ ও আন্তরিক সমর্থন’ থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন, ‘আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’
অ্যান্ড্রু, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এপস্টিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।
২০০৮ সালে এপস্টিন অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা চাওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৩০ লাখের বেশি নথি প্রকাশের পর জানা যায়, ২০১০ সালে ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন সফরের প্রতিবেদন এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু। ২০১১ সালে তাকে বাণিজ্য প্রতিনিধির পদ ছাড়তে হয়।
২০১৯ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়েছেন। ২০২২ সালে ভার্জিনিয়া জিউফরের আনা দেওয়ানি মামলায় সমঝোতা করেন। বর্তমান তদন্ত ওই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন। তবে গ্রেপ্তার মানেই দোষী সাব্যস্ত নয়। পুলিশ বলছে, জনস্বার্থ বড়, সময়মতো হালনাগাদ দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আইন কি সবার জন্য সমান? রাজা নিজেই বলেছেন, আইন চলবে তার পথে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতিতে।

