ইরান নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
গত নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের ইতিহাসে এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনাদের বড় অংশ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে এখন থেকে সিরিয়া সরকারই নেতৃত্ব দেবে। তাই বড় পরিসরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আর প্রয়োজন নেই।
২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেটের প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছেন। এই সিদ্ধান্তকে ‘পরিস্থিতিভিত্তিক রূপান্তর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কোনো হুমকি দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের সময়ই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে ইরানের কাছে। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও বহু যুদ্ধবিমানসহ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানের কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে, যদিও ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দামেস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা নভেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন।
তবে ডিসেম্বর মাসে পালমিরায় আইএসের হামলায় এক দোভাষী ও আইওয়া ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য নিহত হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ চালায়।

