Logo
Logo
×

সংবাদ

জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার, পোলিং কর্মকর্তার দুই বছরের কারাদণ্ড

Icon

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

জামায়াতের নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার, পোলিং কর্মকর্তার দুই বছরের কারাদণ্ড

শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা এক পোলিং কর্মকর্তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুজন মিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। পরে দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তাকে নড়িয়া থানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত পোলিং কর্মকর্তার নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি নড়িয়া উপজেলার ১২৭ নম্বর হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। চলমান নির্বাচনে তিনি পঞ্চপল্লী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, নড়িয়া পৌরসভার একটি বাড়িতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা নির্বাচনী কাজে টাকা বিতরণ করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। খবর পেয়ে তিনিও ঘটনাস্থলে যান। অভিযানে একটি টাকা বিতরণের তালিকা, একটি ল্যাপটপ ও একটি হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ওই কার্যালয়ের ভেতরে একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে পাওয়া যায়, যিনি একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি সেখানে কেন উপস্থিত ছিলেন—এর কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁকে আইনের আওতায় আনা হয়। পরে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

স্থানীয় জামায়াত ও বিএনপি সূত্র জানায়, শরীয়তপুর–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেন নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে নির্বাচনী কার্যালয় পরিচালনা করছিলেন। বুধবার বিকেলে যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জামায়াতের কয়েকজন কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া মাসুদ বলেন, কেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে এমন ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি।

অন্যদিকে, শরীয়তপুর–২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ১৩৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আমাদের কর্মীরা সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁদের যাতায়াত ও সকাল-দুপুরের খাবারের ব্যয়ের জন্য ওই টাকা কার্যালয়ে রাখা ছিল। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় প্রশাসন এ অভিযান চালিয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবৈধভাবে টাকা বিতরণ করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগ আমরা করেছি। কিন্তু সেদিকে নজর না দিয়ে আমাদের দুর্নাম করার জন্য অনিয়মতান্ত্রিকভাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের সময় বিএনপির সমর্থকেরা আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। আমরা এ ঘটনার বিচার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাতে নড়িয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি প্রার্থী সফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জামায়াতের পক্ষে বিভিন্ন স্থানে টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই—এ ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে। ভয়ভীতি ও টাকার মাধ্যমে ভোটের ফল প্রভাবিত করতে দেওয়া যাবে না।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন