Logo
Logo
×

সংবাদ

বিআইডিডির পূর্বাভাস

ভোট বেশি পড়লে সুফল পাবে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

ভোট বেশি পড়লে সুফল পাবে বিএনপি, কম পড়লে জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইডিডি)।  সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি ভোট পড়ার হার ৬৫ থেকে ৬৮ শতাংশে পৌঁছায়, তাহলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।  অন্যদিকে ভোটের হার যদি ৫৩ থেকে ৫৮ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং সেখানে উচ্চমাত্রায় সংগঠিত ও আদর্শভিত্তিক ভোটারের আধিপত্য দেখা যায়, তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

গতকাল সোমবার প্রকাশিত বিআইডিডির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। এটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত সংস্থাটির চতুর্থ পূর্বাভাস। এর আগে তারা আরও তিনটি বিশ্লেষণধর্মী পূর্বাভাস প্রকাশ করেছিল।

চতুর্থ এই পূর্বাভাসে বিআইডিডি ভোটার উপস্থিতির সম্ভাব্য হার, দলভিত্তিক আসন বণ্টনের চিত্র, ভোটের হারে তারতম্যের কারণে ফলাফল কীভাবে বদলাতে পারে এবং ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকির বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছে। প্রতিবেদনে মোট ১৫টি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে গড় ভোটার উপস্থিতি ৫৮ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। সম্ভাব্য ফলাফলের হিসাবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৪৭ থেকে ১৮৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেতে পারে ৭৩ থেকে ১১০টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ থেকে ৩টি আসন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২১ থেকে ২৮টি আসন এবং অন্যান্য দলগুলো মিলিয়ে ৪ থেকে ৬টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিআইডিডি জানিয়েছে, তাদের এই পূর্বাভাস প্রচলিত জনমত জরিপের বাইরে গিয়ে একটি আধুনিক গবেষণাপদ্ধতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। গবেষণায় ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটার উপস্থিতি ও দলভিত্তিক ভোটের প্রবণতার একটি কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের আগস্টের পর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের তথ্য যুক্ত করে আধুনিক মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভোটদানের সময়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ভোট দিতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। প্রতিটি ভোট কাস্টিংয়ে সময় যত বাড়বে, ভোটার উপস্থিতি তত কমবে। আর ভোট কম মানেই নির্বাচনের ফলাফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

বিআইডিডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট ভোটারের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩৩ থেকে ৪২ শতাংশ ভোটার সময়সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে নতুন শিক্ষিত যুব ভোটাররা যদি ৭৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোট দিতে সক্ষম হন, তাহলে গড় ভোটার উপস্থিতি ২ দশমিক ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ৬০টি দলের মধ্যে ৭ থেকে ১০টি দল সংসদে আসন পেতে পারে। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ২ থেকে ৩ জন নারী প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যদিও তাঁদের জয়ের সম্ভাবনাকে মাঝামাঝি পর্যায়ের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সংসদীয় ভোট ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়াকে কেন্দ্র করে ভোটার, পোলিং এজেন্ট ও পোলিং কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিআইডিডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণভোটে অধিকসংখ্যক ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে গিয়ে সংসদীয় নির্বাচনে কারচুপির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া কোনো কোনো দল পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের ধীরে ধীরে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সময় নষ্ট হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভোটাররা ভোটদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পাশাপাশি জোটগুলোর কোর আসন নিশ্চিত করার চেষ্টায় পারস্পরিক দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন