ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম সোমবার সকালে শেষ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রচারণা নিষিদ্ধ। সে অনুযায়ী সোমবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো প্রচারণা বরদাশত করা হবে না। কেউ নিয়ম ভাঙলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের মতে, এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অতীতের তুলনায় ভালো। বড় ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতা কম হয়েছে বলে জানায় কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ১২ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বহিরাগতদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসি। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯৯টি আসনে। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে ভোট স্থগিত।
ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ভোটকক্ষ।
প্রচারের শেষ মুহূর্তেও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়েছে। ১১ দলীয় জোট, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, কাদের সিদ্দিকীসহ অনেকে অভিযোগ তুলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর এহসানুল মাহবুব বলেন, কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব অভিযোগ করেন, ইসি চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। নিরপেক্ষতা রক্ষা করা হয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, কাদের সিদ্দিকীও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে ৪৬১টি ঘটনায় ২৫৯টি মামলা হয়েছে এবং ৩ কোটি ২১ লাখের বেশি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে।
প্রচারে দেখা গেছে, প্রার্থীরা ভোটারের দুয়ারে ছুটে গেছেন। সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং অভিযোগপত্র দাখিলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রচারণা পর্ব।
নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম জানান, শঙ্কা থাকলেও বড় ধরনের অঘটন ঘটেনি। ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো আশঙ্কার কারণ নেই।
সব ভোটের ফল ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশের আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

