ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলেছেন নারী অধিকারকর্মীরা
ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলেছেন নারী অধিকারকর্মীরা।
আজ রোববার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে তারা লিখিত আবেদন জমা দেন।
গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ডা. শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা কেবল অবমাননাকর নয়, এটি দেশের লাখো শ্রমজীবী নারীর সম্মান ও অবদান অস্বীকারের শামিল।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি ‘হ্যাকিং’-এর ফল। তবে আবেদনকারীদের মতে, কোনো প্রমাণ বা তদন্ত ছাড়াই এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
মোশরেফা মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, ‘হ্যাকিং’-এর অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ মেলেনি। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
নারী নেত্রীদের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—যেসব নারী গার্মেন্টসসহ নানা খাতে কঠোর শ্রম দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন, তাদের অপমান মানে গোটা সমাজকে অপমান করা। এমন মন্তব্য সংবিধানের সমতা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের বিরোধী।
তারা বলেন, এই ধরনের বক্তব্য শুধু অবমাননাই নয়, নারীর প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার মনোভাবকে উসকে দেয়।
তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন দায়িত্বহীন ভাষা মেনে নেওয়া যায় না।
আবেদনে চারটি দাবি তোলা হয়—
১. অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে,
২. নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে,
৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে,
৪. প্রার্থিতা বাতিলসহ নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

