Logo
Logo
×

সংবাদ

ধর্মঘটে ফের অচল চট্টগ্রাম বন্দর, চার দাবিতে পরিস্থিতি জটিল, ২ জনকে গুম করার অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ এএম

ধর্মঘটে ফের অচল চট্টগ্রাম বন্দর, চার দাবিতে পরিস্থিতি জটিল, ২ জনকে গুম করার অভিযোগ সরকারের বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের চার দফা দাবিতে আবারও শুরু হয়েছে লাগাতার ধর্মঘট। আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত।

রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতিতে অংশ নেন। ফলে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে কনটেইনার ও অন্যান্য পণ্য ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। একইসঙ্গে পণ্য ডেলিভারির কার্যক্রমও সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকে।

সকাল থেকে বন্দরের ভেতরে ট্রেলার কিংবা পণ্য পরিবহনকারী কোনো যানবাহন প্রবেশ করেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের ভাষ্যে, এই মুহূর্তে কার্যত পুরো বন্দর কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে প্রশাসন চাপ প্রয়োগের কৌশল নিচ্ছে। বন্দরের ভেতর ও আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

তাদের অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দুজন সদস্য শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছে। এ নিয়ে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন জানিয়েছেন, “সকাল থেকেই ধর্মঘট চলছে। কোথাও কোনো ধরনের কাজ হচ্ছে না। শ্রমিক-কর্মচারীরা শতভাগ একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ভেঙে দিতে কর্তৃপক্ষ নতুন কৌশল নিচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের দুজন সদস্যকে গুম বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।”

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কর্মবিরতির ডাক দেয়। পরে তারা ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ নামে বৃহত্তর ব্যানারে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকে।

এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার বন্দর পরিদর্শনে যান নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের তোপের মুখে পড়েন।

পরবর্তীতে উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর সংগ্রাম পরিষদের নেতারা দুইদিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

তবে সেই বিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শনিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা পুনরায় রোববার সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন।

এবারের আন্দোলনের দাবির তালিকায় এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর বাতিলের পাশাপাশি আরও তিনটি দাবি যুক্ত করা হয়েছে।

প্রথমত, যারা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নেওয়া যেকোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারী কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে যেন আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হয়।

তৃতীয়ত, বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে সরাতে হবে—এই দাবি জানিয়ে সংগ্রাম পরিষদ বলেছে, তার নীতিনির্ধারণী ভূমিকা বন্দরের স্বার্থবিরোধী।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। এখানে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্মঘট চলতে থাকলে তা শুধু বন্দরের নয়, দেশের সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড় এবং বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন