বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী দীপু ৫ দিনের রিমান্ডে
রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শুক্রবার পোস্ট অফিস গলির একটি বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ।
পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি মেহেদী হাসানের নিজের। তার তিনতলার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র পাওয়া যায়। এছাড়া ৩৯৪টি গুলি ও ৮টি পিস্তলের ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেলও উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার মেহেদী হাসানকে অস্ত্র, গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক সুমন মিয়া আসামি বিপুকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত পাঁচ দিন মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
কে এই সন্ত্রাসী দীপু
পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান দীপু। মেহেদী ও তার সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।
পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। আধিপত্য বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তার নাম আসা ছিল তখনকার নিয়মিত ঘটনা। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে।

