Logo
Logo
×

সংবাদ

এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দুই দিন বিরতির পর ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।  আগামীকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। এবার ধর্মঘটের আওতায় বন্দরের বহির্নোঙরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ চার দফা দাবিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান দাবি হিসেবে তারা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়া হবে না—এ মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছে।

অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ।

আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতা হুমায়ুন কবির লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সংকট নিরসনের পরিবর্তে বন্দর চেয়ারম্যান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। তাকে অবিলম্বে অপসারণ করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।”

সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, এতদিন বহির্নোঙরের কার্যক্রম ধর্মঘটের বাইরে থাকলেও রোববার থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে সেখানেও সব ধরনের কাজ বন্ধ থাকবে।

এর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে শ্রমিকরা টানা ছয় দিন কর্মবিরতি পালন করেন। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

তবে শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে আন্দোলনকারী নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানায়।

আন্দোলনের কারণে গত মঙ্গলবার থেকে বন্দরের তিনটি প্রধান স্থাপনা—এনসিটি, চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থের (জিসিবি) কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯১ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। টানা অচলাবস্থার ফলে রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন