ঐক্য সরকারের পরিকল্পনা নেই, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী
রয়টার্সকে তারেক রহমান
বাংলাদেশের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুক্রবার জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন শেষে তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রস্তাবিত ঐক্য সরকারে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা রাখছেন না। তার বক্তব্য স্পষ্ট—তাদের দল এককভাবেই জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসনে থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার এই প্রত্যাবর্তন আসে একটি যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার পতনের পথ তৈরি করে। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মায়ের, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও দলটি এখন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত একসাথে সরকার চালিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জামায়াত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যাতে করে দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়। ২০২৪ সালের অস্থিরতায় দেশের প্রধান পোশাকশিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্ব নেয়। তিনি এখন ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের আদালত গত বছর তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে।
তারেক রহমান এই প্রস্তাব নিয়ে বলেন, ‘যারা আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তাদের সঙ্গে আমি কীভাবে সরকার গঠন করব? আর তখন বিরোধী দল থাকবে কে?’
তিনি এই মন্তব্য করেন তার দলীয় কার্যালয়ে এক সাক্ষাৎকারে, যেখানে তার পেছনে ঝুলছিলো তার মা এবং বাবা—প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি।
তারেক আরও বলেন, ‘তাদের সংসদে কয়টি আসন হবে আমি জানি না। তবে তারা যদি বিরোধী দলে যায়, আমি চাই তারা একটি ভালো বিরোধী দল হোক।’
তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বলেন, বিএনপি আশাবাদী—তারা ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জিতবে। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের মিত্ররা।
তারেক কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বলেননি, তবে জানান, ‘সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট আসন আমরা পাব—এ নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই।’
সব জরিপেই বিএনপির জয়ের ইঙ্গিত মিলেছে, তবে একই সঙ্গে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জেনারেশন জেড-এর জোট থেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও বলা হয়েছে। এই নতুন দলটি মূলত যুব-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্য থেকে উঠে এসেছে।

