Logo
Logo
×

সংবাদ

জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের মিছিল

Icon

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেডে ছত্রভঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের মিছিল

নবম পে স্কেল ঘোষণার দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকা। আজ শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে পদযাত্রা ঠেকাতে পুলিশ জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।  এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারী শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তাঁরা যমুনার দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘যমুনারে যমুনা, পে স্কেল ছাড়া যাব না’ এবং ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’—এমন নানা স্লোগান দেন।

শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে মিছিল এগোলে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে পথচারীরা ছুটোছুটি শুরু করেন।

পুলিশি বাধার মুখে আন্দোলনকারীরা কিছুটা পিছু হটলেও পরে পুনরায় সংগঠিত হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন। বেলা ১টার দিকে সেখানে আবারও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশের ধাওয়ায় আন্দোলনকারীদের একাংশ বাংলামোটরের দিকে এবং অন্য অংশ শাহবাগের দিকে সরে যায়। বেলা সোয়া ১টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পুলিশের নিয়ন্ত্রণে এলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

যমুনার নিরাপত্তা জোরদার করতে কাকরাইল মসজিদ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আন্দোলনকারী সরকারি কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, নবম পে স্কেলের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। তাঁদের দাবি, একটি রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে বিষয়টি আটকে আছে। দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার আলটিমেটাম দেন তাঁরা।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সকাল ১০টার পর আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁরা সরে না যাওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের একটি পৃথক অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। তার মধ্যেই পে স্কেলের দাবিতে আজকের এই বড় আন্দোলনে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে তীব্র যানজট ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন