পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারি
হাসিনা, রেহানা ও তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে বাকি দুই মামলার রায় আজ
প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারির ছয়টি মামলার মধ্যে বাকি থাকা দুটি মামলার রায় আসছে আজ সোমবার।
এর একটি মামলা শেখ হাসিনার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে। অপর মামলার প্রধান আসামি ববির ছোট বোন আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তী।
রায় ঘোষণা করবেন ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম।
ইতিমধ্যে চার মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জয় ও পুতুলের কারাদণ্ড পাঁচ বছর করে, শেখ রেহানার সাত বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর।
ববির মামলায় মোট ১৮ জন আসামি, যাদের মধ্যে আছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা এবং রাজউকের একাধিক সদস্য।
রূপন্তীর মামলার আসামির তালিকাও প্রায় একই। তবে এখানে যুক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ ও রাজউকের সাবেক উপপরিচালক কামরুল ইসলাম।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে এই প্লট বরাদ্দের ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জালিয়াতি হয়েছে।
আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ধারা অনুসারে অভিযোগ আনা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে। তিনি সেদিনই দেশত্যাগ করেন। এরপর থেকেই একের পর এক মামলা শুরু হয়।
হাইকোর্ট গঠন করে একটি তদন্ত কমিটি, যা ২০০৯–২০২৪ সময়কালের প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খতিয়ে দেখে।
দুদক তদন্তে পায়, পূর্বাচলের কূটনৈতিক জোনে হাসিনা পরিবারের সদস্যদের নামে ছয়টি ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়—ববি, রূপন্তী, জয়, পুতুল, শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনার নামে।
ববির বিরুদ্ধে অভিযোগ, পূর্বেই ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজউক এলাকা থেকে প্লট নেন, তা-ও বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে। টিউলিপ সিদ্দিক তাকে সহায়তা করেন, খালা শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে।
অপরদিকে, রূপন্তী নিজের ও পরিবারের সম্পত্তির তথ্য গোপন করে প্লট নেন। নোটারি দলিলে জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
দুই মামলাতেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি নথি গায়েব করার অভিযোগ।

