সংখ্যালঘুরা শঙ্কায়, ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হতে পারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নাগরিক অধিকার হিসেবে ভোট দিতে আগ্রহী হলেও জীবন, জীবিকা, সম্পদ ও সম্ভ্রমের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের ভয় কাটছে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এই শঙ্কা ভোট প্রদানে সংখ্যালঘুদের নিরুৎসাহিত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হওয়ার দায় সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলো এড়াতে পারে না। এ অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ভূমিকা কামনা করা হয়।
ঐক্য পরিষদ জানায়, নির্বাচনের আর মাত্র ১৪ দিন বাকি থাকলেও এখনো গত বছরের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি, যার মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—বিশেষ করে নারীরা—প্রতিনিয়ত ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না, ফলে অনেক পরিবার অভ্যন্তরীণভাবে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছে।
ঐক্য পরিষদ অভিযোগ করে, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের নামে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এর পক্ষে সরাসরি প্রচার চালানো হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করে সংগঠনটি।
সংগঠনটির মতে, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের সংবিধান আজ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
ঐক্য পরিষদের সাত দফা দাবি
১. সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও প্রার্থী হওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি।২. নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও শাস্তির বিধান।৩. প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীর নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত।৪. সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল এবং একটি মনিটরিং সেল গঠন।৫. নিরাপত্তা বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ সব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা।৬. নির্বাচনী প্রচারে মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ।৭. ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।

