পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে অগ্রসর হচ্ছে সরকার, কাজ শুরু মার্চে
দীর্ঘ ছয় দশকের আলোচনা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে এগোচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের মার্চে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা, তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যয় আরও বাড়তে পারে। কাজ তিনটি পর্যায়ে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। আপাতত কোনো বিদেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ পেলে ঋণের বিষয়ে বিবেচনা করা হতে পারে।
প্রকল্পটি আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে অনুমোদনের জন্য।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের পর ভারত গঙ্গার পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যায়। এর ফলে কৃষি, মৎস্য, নৌ চলাচল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা ও লবণাক্ততা হ্রাস করাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এ ব্যারাজের মাধ্যমে বছরে ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প এলাকা হিসেবে রাজবাড়ীর পাংশা অঞ্চলকে সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এখানে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট।
নৌ চলাচলের জন্য থাকবে একটি নেভিগেশন লক এবং মাছ চলাচলের জন্য দুটি ফিশ পাস। ব্যারাজের ওপর দিয়ে নির্মাণ হবে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার রেলসেতু এবং থাকবে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎ প্লান্ট।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাইয়ে একটি ডেডিকেটেড ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং প্রকৌশল সহায়তায় যুক্ত থাকবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হালনাগাদসহ বেশ কিছু পরামর্শ ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত মনে করেন, ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন বিষয়ে সমঝোতা না হলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। পানি না পেলে ব্যারাজ কার্যকর হবে না এবং বিদেশি সহায়তাও অনিশ্চিত থাকবে।
ব্যারাজ নির্মিত হলে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়ালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ বাড়বে। সেচ সুবিধা বাড়বে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে, যার ফলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, পাবনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলে।
শুষ্ক মৌসুমে অন্তত ৫৭০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড হারে পানি ছাড়া হবে বলে প্রকল্প ডিপিপিতে উল্লেখ রয়েছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলে পলি জমা হ্রাস পাবে, নদীজীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে এবং পানি সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

