অভিযানের আগে নাম-ঠিকানা দিতে হবে: র্যাব হত্যার প্রধান আসামির হুঁশিয়ারি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের ওপর হামলায় র্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ ইয়াসিন অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, অভিযানের নামে ঢালাওভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। কাউকে ধরতে হলে তার নাম-ঠিকানা আগে জানাতে হবে।
বুধবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে নিজের কার্যালয়ে প্রায় ২৯ মিনিটের এক বক্তব্য দেন ইয়াসিন। পরদিন বৃহস্পতিবার তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বক্তব্যে ইয়াসিন দাবি করেন, তিনি কোনো সন্ত্রাসী নন। জঙ্গল সলিমপুরের জমি তাদের ক্রয় করা সম্পত্তি। তাকে বা তার অনুসারীদের কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি। বলেন, ‘...ক্রাইমের ফান্দে পাড়া দিয়া কেউ যদি কোনো ঝামেলা করে, এতে কিন্তু বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যদি এই এলাকায় হয়, এতে কিন্তু জনবিস্ফোরণ ঘটবে। এই জনবিস্ফোরণের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি সোমবারের র্যাব অভিযানের সততা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তদন্ত দাবি করেন। অভিযানের জন্য দায়ী হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রোকন উদ্দিনকে উল্লেখ করেন।
র্যাব জানায়, সোমবার বিকেল চারটার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে আসামি ধরতে গেলে র্যাব সদস্যদের ওপর মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলায় মোতালেব হোসেন নিহত হন। র্যাব-৭ বুধবার রাতে সীতাকুণ্ড থানায় মামলাটি দায়ের করে। এজাহারে ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, র্যাব সদস্যদের ওপর রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করা হয়। আটক করা একজন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত। পাহাড় কেটে তৈরি করা বসতিতে চলছে অবৈধ প্লট বাণিজ্য এবং সেই দখল বজায় রাখতে গঠিত হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এলাকাটিতে মোহাম্মদ ইয়াসিন ও রোকন উদ্দিন নামে দুই পক্ষের সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়।
ইয়াসিন এক সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার অনুসারী ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী বলে দাবি করলেও, আসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে সেই সম্পর্ক অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই এবং ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ইয়াসিনের প্রকাশ্য হুমকি ও বক্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ইয়াসিন আলীনগরের কার্যালয়ে বসে এই বক্তব্য দিয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এদিকে, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহীদুর রহমান বলেন, ‘৫০ জনের ওপরে র্যাব সদস্য অভিযানে ছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন, অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে। তবে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখবে অভিযানে কোনো ত্রুটি ছিল কি না।’

