ইউএপির দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার নিন্দা
ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি)-এর দুই শিক্ষককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুতি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘মবের কাছে নতজানু সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ধর্মবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে প্রাক্তন ও বর্তমান কিছু প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষার্থীর চাপে প্রশাসন দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেয়। সংগঠনটি মনে করে, এ সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক, লজ্জাজনক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে।
সংগঠনের ভাষ্যমতে, শিক্ষিকা লায়েকা বশির পরীক্ষার হলে একজন নারী শিক্ষার্থীকে নেকাব খুলতে বলেছিলেন এবং পরে ফেসবুকে ‘মুখ ঢেকে অপরাধ বাড়ে’ এমন মন্তব্য করেন। পরে তিনি তা মুছে দিয়ে ক্ষমাও চান। তবু বিষয়টিকে ইসলামবিদ্বেষ হিসেবে প্রচার করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলনে নামে।
নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার বক্তব্য, মুখ ঢেকে অপরাধ বাড়ার ঘটনা ধর্মীয় নয়, বরং সামাজিক বাস্তবতা। পাসপোর্ট, নিয়োগ পরীক্ষা বা অন্যান্য ক্ষেত্রে চেহারা দেখানোর নিয়ম থাকা সত্ত্বেও এটিকে ধর্মের নামে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মবের চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
অন্যদিকে, শিক্ষক ড. মহসিন শুধু একটি ফেসবুক পোস্টে ‘লাইক’ দিয়েছিলেন—এই কারণে তাকে ‘আওয়ামীপন্থী’ বা ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার বিরুদ্ধেও আন্দোলন হয়েছে এবং পরে তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়।
সংগঠনটি বলছে, যেসব আশায় ৫ আগস্টের পর সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, তা এখন ধর্মীয় প্রতিক্রিয়াশীলদের দখলে চলে যাচ্ছে। এর পেছনে দায়ী করা হয়েছে বর্তমান ইউনুস সরকারকে, যারা এ ধরনের মবকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
চূড়ান্তভাবে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা দাবি করেছে, দুই শিক্ষককে অবিলম্বে স্বপদে ফিরিয়ে আনতে হবে। একইসঙ্গে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল ছাত্র-শিক্ষক সমাজকে এ ঘটনায় সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

