Logo
Logo
×

সংবাদ

এশিয়া প্যাসিফিকের ২ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ‘নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা’র নিন্দা

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

এশিয়া প্যাসিফিকের ২ শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ‘নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা’র নিন্দা

ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) দুই শিক্ষকের নামে ‘ইসলামবিদ্বেষ’ এর অভিযোগে চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা। অবিলম্বে তাঁদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সহ-সভাপতি বিপ্লব ভট্টাচার্যের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘তথাকথিত “ইসলামবিদ্বেষ”-এর অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান “প্রতিক্রিয়াশীল” শিক্ষার্থীদের দ্বারা মব সৃষ্টিকারী তথাকথিত “সাধারণ শিক্ষার্থী” নামধারীদের দাবির মুখে ইউএপি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দুইজন শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি করেছেন। আমরা ইউএপি প্রশাসনের এমন অগণতান্ত্রিক, নির্লজ্জ ও মবের কাছে নতজানু সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—মিডিয়ার খবর ও অনুসন্ধানে জানা যায়, চাকরিচ্যুতি শিক্ষক লায়েকা বশির পরীক্ষার হলে একজন নারী শিক্ষার্থীকে ‘নেকাব’ খুলতে বলে এবং ‘মুখ ঢেকে থাকার কারণে অপরাধ বাড়ে’ এমন কথা বলেছেন ফেসবুকে। পরে আবার স্ট্যাটাসটি তিনি ‘অনলি মি’ করে ক্ষমাও চান। এটাকে মববাজরা ‘ইসলামবিদ্বেষ’ বলে আখ্যায়িত করে আন্দোলনে নেমেছেন।

এতে আরও বলা হয়—‘মুখ ঢেকে অপরাধ’ ঘটনার মতো এমন ঘটনা আমরা অহরহই দেখি যার সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্কই নেই। যেকোনো গণতান্ত্রিক মানুষ মাত্রই তা স্বীকার করবেন। তাছাড়া পাসপোর্ট, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, গার্মেন্ট সব জায়গায় 'নেকাব' খুলে চেহারা দেখানোর নিয়ম আছে। এটা কোনো 'ইসলামবিদ্বেষ' নয়। বরং বিশ্ববিদ্যালয়কে মববাজদের মনমতো,  তাদের 'মতাদর্শে' চালানোর দুরভিসন্ধি ছাড়া আর কিছু নয়। 'ইসলামবিদ্বেষ' এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে মববাজদের ক্ষমতা প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে। এটা স্পষ্টতই ধর্মের 'অপব্যবহার'।

অন্যদিকে ফেইসবুকে 'লাইক' দেবার অপরাধে ড. মহসিনকে 'ফ্যাসিস্টের দোসর' 'আওয়ামীপন্থী' ট্যাগ দিয়ে মববাজরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। ৫ আগস্টের পর এই সরকার ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গড়ে উঠা মববাজরা প্রতিনিয়ত 'নতুন বন্দোবস্ত' 'নতুন বাংলাদেশ' এর গল্প আমাদের প্রতিদিন শোনাচ্ছে অথচ ফেসবুকে 'লাইক' দেওয়ার অপরাধে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হলো। 'নতুন বন্দোবস্ত'র এটি আরেক 'নতুন' নমুনা—উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রগতিশীল ছাত্র, শিক্ষক,  বুদ্ধিজীবী ও জনতা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল ৫ আগস্টের পর থেকেই এই আকাঙ্খা  'ধর্মবাদী' প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দ্বারা কুক্ষিগত হচ্ছে। এর জন্য প্রধানত দায়ী এই ইউনুস সরকার। তাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়েই এইসব মব সৃষ্টি করে অগণতান্ত্রিকভাবে সকল কাজকর্ম করা হচ্ছে। এই মববাজদের কথাই যেন আইন আর এই ইউনুস সরকার শুধু তার তল্পিবাহক। মববাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়াতেই এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। 

 

এতে আরও বলা হয়—আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনকালেও আমরা দেখেছি বিরুদ্ধ মত বা ভিন্নমতকে দমন করতে 'বিএনপি-জামাত' 'রাজাকার' ইত্যাদি ট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে ৫ আগস্টের পর তথাকথিত 'নতুন বাংলাদেশ' এ  'ফ্যাসিস্টের দোসর', 'ইসলামবিদ্বেষী' 'নাস্তিক' ইত্যাদি ট্যাগ ব্যবহার করে ধর্মবাদী প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে ভিন্নমত দমনের গণবিরোধী অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। 

 

নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানায়। পাশাপাশি দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শিক্ষক, ছাত্র সংগঠন, জোট,  সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউএপি প্রশাসনের মববাজদের কাছে নতজানু সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং চাকরিচ্যুত দুই শিক্ষককে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করার জন্য সংগঠিত প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করার আহবান জানায়। 

 

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন