Logo
Logo
×

সংবাদ

রাতের ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন ও ভুয়া ভোটে ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছিল: আইন উপদেষ্টা

Icon

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

রাতের ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচন ও ভুয়া ভোটে ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছিল: আইন উপদেষ্টা

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষকে প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। একবার রাতের আঁধারে ভোট, একবার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া নির্বাচন এবং আরেকবার ডামি ও ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখা হয়েছিল। আজ সোমবার দুপুরে বগুড়া জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, টানা ১৫ বছর দেশের জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করা হয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার অসামান্য ভূমিকার কারণেই দেশ আজ একটি নতুন সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ আবার ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেয়েছে, যা কোনোভাবেই হারানো যাবে না।

তিনি বলেন, ‘আপনার সরকার কে হবে, তা আপনি ঠিক করবেন। আগে এটি ঠিক করতেন শেখ হাসিনা, আর এখন ঠিক করবে দেশের মানুষ।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। যে যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে-এটাই গণতন্ত্র। তবে কেউ অন্যের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করলে সে নিজেই ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধিতে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অতীতে দেশে এমন একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল, যেখানে আয়নাঘর, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে মানুষকে নির্যাতন করা হতো। দিনের পর দিন বিচার ছাড়াই মানুষকে কারাগারে রাখা হয়েছে, এমনকি কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। 

তিনি বলেন, দুর্নীতি, অর্থপাচার, ব্যাংক লুট এবং বিদেশি শক্তির কাছে নতজানু থাকার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে দেশের আইন, নীতি ও প্রতিষ্ঠান সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার সীমিত ক্ষমতার মধ্যেই বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা, মানবাধিকার কমিশন গঠন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা এই সরকারের এখতিয়ারের বাইরে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, কোথায় কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন- তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনগণের মতামত জানার জন্যই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। 

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ -দুটি বিকল্প থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা যদি চান বৈষম্য, নিপীড়ন, অবিচার ও দুর্নীতি দূর হোক, তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। আর যদি আগের মতো একচ্ছত্র ক্ষমতা ও দুর্নীতির শাসন চান, তাহলে ‘না’ ভোট দেবেন।’

তিনি আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে গণভোট নয়; এটি দেশের স্বার্থে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি সংস্কার কার্যকর করতে জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন