Logo
Logo
×

সংবাদ

ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

ঢাবিতে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ কর্মসূচি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও তাঁদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন একদল নারী শিক্ষার্থী। আজ রবিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ নামের প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে তারা তাদের দাবি ও প্রতিবাদ তুলে ধরেন।

এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, শামসুন্নাহার হল শাখার সহসভাপতি কানিজ কুররাতুল আইনসহ বিভিন্ন বিভাগ ও হলের নারী শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে হেমা চাকমা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে তথাকথিত ‘অশালীনতা প্রতিরোধের’ নামে সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইভাবে রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা কোনো লিখিত নীতিমালা, গণবিজ্ঞপ্তি বা আইনি ভিত্তির আওতায় পড়ে না। নিরাপত্তার নামে নারীদের নিয়মিত প্রশ্ন, জেরা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একই স্থানে পুরুষ শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও আড্ডা দেওয়ার সুযোগ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি স্পষ্ট বৈষম্যের উদাহরণ। হেমা চাকমা বলেন, “সুরক্ষার অজুহাতে নারীদের চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব করা কাঠামোগত বৈষম্যেরই অংশ।”

এ সময় আন্দোলনকারীরা নারীবান্ধব ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রক্টরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—

১) নারী শিক্ষার্থীদের ওপর চলমান সব ধরনের হয়রানি ও বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ বন্ধ,

২) টিএসসিসহ ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ টয়লেট নিশ্চিত,

৩) সব বৈধ নারী শিক্ষার্থীর যেকোনো হলে প্রবেশের অনুমতি,

৪) যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল পুনর্গঠন ও কার্যকর করা এবং

৫) হলের আবাসিক ছাত্রীদের মা ও বোনদের হলে প্রবেশের অনুমতি প্রদান।

প্রতীকী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চিকেন বারবিকিউ করে তারা প্রতিবাদ জানান। কর্মসূচির নামের ব্যাখ্যায় শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, “নারীদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের যে বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেই বাধা পোড়ানোর প্রতীক হিসেবেই এই নাম রাখা হয়েছে।”

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন