‘মব’ শব্দে বিপ্লব প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা আছে: তাজুল ইসলাম
রাজনীতিবিদদের সমালোচনা
‘মব’ শব্দটি বলার পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আজ রবিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তাজুল ইসলাম এ কথা বলেন। সংলাপের আয়োজক সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
সংলাপের শুরুতে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, বর্তমানে আইনের শাসনের বদলে ‘মবোক্রেসি’ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চলছে এবং তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে নিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতীকী উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে বা পরে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে তার প্রতিক্রিয়া অনিবার্য। তিনি অভিযোগ করেন, মবকে সুযোগ দেওয়ার ফলেই এখন তারা সরকার, নির্বাচন কমিশন এমনকি রাষ্ট্রকেও ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই বক্তব্যগুলোর জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন, তার সঙ্গে বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর কেউ যদি রাস্তায় ছিনতাইকারী অথবা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করে—দুটোকে একসঙ্গে বিচার করা যাবে না। ‘মব’ শব্দটা প্রয়োগের আগে অবশ্যই খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, গণভবনের পতনের এই বিপ্লবের যে অর্জন, সেটার সঙ্গে ‘মব’ শব্দটি বারবার ব্যবহার করে বিপ্লবীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনো মহলে থাকলে তাদের সংযত হওয়া উচিত।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আইনের শাসন চান, আবার মবকে উসকান। এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না।’
বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
সংলাপের সঞ্চালক সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, এই টেবিলে বসেই সরকারের একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছিলেন “মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ”...এই জাস্টিফিকেশন দাঁড় করানোর কয়েক দিন পর আমরা দেখলাম, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার…তারপর দেখলাম তাঁরা আর মব নিয়ে কথা বলছেন না। এখন আবার যখন তাঁরা মবের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন, আমরা আশঙ্কা করছি, অচিরেই হয়তো আমাদের ওই রকম কিছু ঘটনা বা দুর্ঘটনা দেখতে হতে পারে।’

