নোয়াখালীতে নির্বাচনী বৈঠকে বাগবিতণ্ডার পর যুবককে পিটিয়ে হত্যা
নোয়াখালীর কবিরহাটে এক যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি, বয়স প্রায় ৩৫ বছর।
শনিবার রাতে, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজারের কাছাকাছি কাজী বাড়ির সামনে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। রাত ১০টার দিকে তাকে সবার সামনে মারধর করে হত্যা করা হয়।
মিজান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা শহীদ, আর তিনি ছিলেন দুই সন্তানের জনক।
স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাত আটটার দিকে বিএনপির একটি নির্বাচনী সভা হচ্ছিল কালিরহাট বাজারে। এটি ছিল ২ নম্বর ওয়ার্ডের দলীয় কার্যক্রম।
সেই বৈঠকে হঠাৎ হাজির হন মিজান। সেখানে গিয়ে তিনি নিজেকে দলের পুরোনো ও ত্যাগী কর্মী বলে দাবি করেন। এ নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।
বাকবিতণ্ডা তীব্র হয়ে উঠলে মিজানকে ধাওয়া করা হয়। তিনি তখন এলাকা ছেড়ে চলে যান।
কিছু সময় পর, বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে তাকে কয়েকজন ধরে ফেলে। এরপর লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় বেপরোয়াভাবে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে মরদেহ রাস্তার ওপর ফেলে রাখা হয়।
বিএনপির স্থানীয় নেতা হারুনুর রশীদ হারুন জানান, ওই রাতে তারা অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। কিছু সময় পর চলে যান। পরে তারা শুনতে পান, কে বা কারা মিজানকে হত্যা করে লাশ রাস্তায় ফেলে রেখে গেছে।
কবিরহাট থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, রাতেই তারা খবর পান গণপিটুনিতে একজন মারা গেছে, যাকে ডাকাত বলা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, মিজানের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

