Logo
Logo
×

সংবাদ

খালেদা জিয়ার জীবনগাথা: সংগ্রাম, শাসন ও প্রতিরোধের ইতিহাস

ডেস্ক রিপোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০১ পিএম

খালেদা জিয়ার জীবনগাথা: সংগ্রাম, শাসন ও প্রতিরোধের ইতিহাস

বাংলাদেশের ইতিহাসে খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন একটি রাজনৈতিক ধারার প্রতীক, একটি আন্দোলনের মুখ, এবং আপসহীন নেতৃত্বের মূর্ত প্রতিচ্ছবি। 

এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে উঠে আসা তার জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর অনড় বিশ্বাসে পূর্ণ।

১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া দেশভাগের পর পরিবারসহ চলে আসেন বাংলাদেশের দিনাজপুরে। রাজনীতি থেকে অনেক দূরে থাকা এই নারী ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অফিসার জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। তখন তার পরিচয় ছিল ‘খালেদা খানম পুতুল’ নামে।

১৯৭৭ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জনজীবনে প্রথম আবির্ভাব ঘটে খালেদা জিয়ার। তবে প্রকৃত অর্থে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে চলে আসেন।

১৯৮৪ সালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, এরপর ১৯৮৬ সালে দলীয় চেয়ারপারসন হন। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে বিএনপি হয়ে ওঠে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ২০০১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে অর্থনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও নারীশিক্ষায় অগ্রগতি সাধিত হয়।

তবে রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি বিতর্কও তাকে ছাড়েনি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে, বিশেষ করে ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে খালেদা জিয়া ও তার দল কঠোর দমননীতির শিকার হয়। একাধিক দুর্নীতি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে দুর্নীতি মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ২৫ মাস বন্দি জীবন শেষে করোনা পরিস্থিতিতে তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়া বরাবরই ‘দেশপ্রেম’ ও ‘জনগণের পাশে থাকার’ বার্তা দিয়েছেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বারবার প্রস্তাব এলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন: ‘এই দেশের মানুষকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না।’

তার রাজনৈতিক জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই এসেছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর দল পুনর্গঠনের চেষ্টা চালান। তিনি ছিলেন বিএনপির প্রতিটি সংকটকালে দলীয় ঐক্যের ভিত্তি। তার উপস্থিতি ছিল কর্মীদের অনুপ্রেরণা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও আমি বিদেশে যাচ্ছি না। আমি এখানেই থাকব।’ এ কথা তার আপসহীন মনোভাবের পরিচয় দেয়।

বিএনপির রাজনীতিতে তার অবদান, বিশেষ করে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, জনমতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ—সব মিলিয়ে খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি রাজনীতিকে দেখেছেন জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে। তার রাজনৈতিক জীবন ছিল জনগণের পক্ষে এক নিঃশব্দ কিন্তু দৃঢ় উচ্চারণ।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন