Logo
Logo
×

সংবাদ

খালেদা জিয়ার জানাজার সময় ও স্থান জানাল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম

খালেদা জিয়ার জানাজার সময় ও স্থান জানাল সরকার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আজ মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, বুধবার আনুমানিক দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ জিয়ার কবরের পাশে দাফন করা হবে।

প্রেস উইং আরও জানায়, রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক দাফন সম্পন্ন হবে। কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন করা যাবে না।

এদিকে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। জানাজার নামাজ পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। এ ছাড়া জানাজা অনুষ্ঠান পরিচলানা করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক এবং আগামীকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা শোক প্রকাশ করে ভাষন দিয়েছেন। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।

খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী। দেশ-বিদেশে তথা দক্ষিণ এশিয়ায় নারী প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় এ নেত্রী আজ দেশবাসী, দলীয় নেতাকর্মী, ভক্ত ও অনুসারীদের কাঁদিয়ে পরলোকে পাড়ি জমান।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৭ পিএম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এনসিপির শোক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ মঙ্গলবার এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এ শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের পক্ষ থেকে এনসিপি গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন, বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রদূত ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ ৩০ ডিসেম্বর সকাল ০৬ ঘটিকায় ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তার এই মৃত্যুতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে।

শোকবার্তায় আরও বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে অনন্য অবদান রেখেছেন।

তারা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ, দমন ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়ে, তিনি কখনও নিজের আদর্শ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকারের জন্য আপোষ করেননি। তাঁর সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থায়ীভাবে চিহ্নিত হবে।

শোকবার্তায় তারা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রাম শুধুমাত্র একটি সময়ের রাজনৈতিক ঘটনা নয়-এটি আমাদের সকলের জন্য গণতন্ত্রের প্রতি অটল থাকার অনুপ্রেরণা, স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিজ্ঞা এবং দেশনেত্রী হিসেবে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার এক অমলিন শিক্ষা।

আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, অনুসারী ও দেশের মানুষদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৪০ পিএম

খালেদা জিয়ার জানাজা পড়াবেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার বেলা ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার নামাজ পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতি মুফতি আব্দুল মালেক। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান।  

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে সংসদ ভবন এলাকার পাশে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে দাফন করা হবে। জানাজার নামাজ পড়াবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতি মুফতি আব্দুল মালেক। এ ছাড়া জানাজা অনুষ্ঠান পরিচলানা করবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক এবং আগামীকাল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা শোক প্রকাশ করে ভাষন দিয়েছেন। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছি।

খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। এ সময় হাসপাতালে তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৫ পিএম

খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অংশ নেবেন। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও তার জানাজায় অংশ নেবেন। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খালেদা জিয়ার জানাজা, দাফন ও আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় নিয়ে বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের ক্ষেত্রে ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ব্রিফিংয়ের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:২৬ পিএম

নির্বাচনে কখনো হারেননি খালেদা জিয়া

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনেও ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসনে নির্বাচন করার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। সদ্যপ্রয়াত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মাঠে বরাবরই অপরাজেয় ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো নির্বাচনে হারের মুখ দেখেননি। দেশের যে প্রান্তেই নির্বাচন করেছেন, বিজয় কেতন উড়িয়েছেন।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ‘৯১ থেকে ‘০১ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়ে সবগুলো আসনে জয়লাভ করেছেন।

২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন। সেবার অবশ্য নির্বাচনে ভরাডুবি হয়। তবে খালেদা জিয়ার নির্বাচনি ফর্মে কোনো নড়চড় হয়নি।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০১৪ এবং ২০২৪ এর জাতীয় নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। আর মামলার কারণে ২০১৮ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। সেবারও তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। আসনগুলো হচ্ছে- ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭।

খালেদা জিয়ার অতীত নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা দেখা যায়, তিনি বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রামের আসন থেকে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে ঢাকার একটি আসন থেকে এবং ২০০১ সালে খুলনার একটি আসন থেকে ভোটে লড়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল বেশি।

১৯৯১ সালে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়লাভ করেছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৭ আসনে  ৮৩ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছিলেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৭৬০। একইভাবে ঢাকা-৫ আসনে ৭১ হাজার ২৬৬, ঢাকা-৯ আসনে ৫৫ হাজার ৯৪৬, ফেনী-১ আসনে ৩৬ হাজার ৩৭৫ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬৯ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তিনি।

১৯৯৬ সালেও পাঁচ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়ের দেখা পান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৭ হাজার ৪১৭, ফেনী-১ আসনে ৬৫ হাজার ৮৬, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৯ হাজার ৫৪ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬৬ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

একইভাবে ২০০১ সালেও সমান পাঁচ আসনে বিজয় কেতন ওড়ান খালেদা জিয়া। সে নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৫, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২, খুলনা-২ আসনে ৯১ হাজার ৮১৯, ফেনী-৩ আসনে ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে জয় পান তিনি।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিন আসনে প্রার্থী হন খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনেও যথারীতি সব আসনে বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৩, বগুড়া-৭ আসনে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৮ ও ফেনী-১ আসনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:০৪ পিএম

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩ দিনের রাষ্ট্রীর শোক, বুধবার সাধারণ ছুটি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ ও ২ জানুয়ারি) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। এ ছাড়া বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সারাদেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ ঘোষণা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অভিভাবক। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন নেতৃত্ব দেশকে বারবার দিকনির্দেশনা দিয়েছে।’

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘শোকের এই সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং কোনও ধরনের অস্থিতিশীলতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের ঠিক পরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আমরা তার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং সকলের নিকট তার বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া চাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং তিনি সংকটময় মুহূর্ত পার করছিলেন বলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন।

আপডেট

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৯ এএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণ

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া, সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরনো সমস্যা। হাসপাতালে ভর্তির পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) নেওয়া হয় তাকে। 

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখছিলেন ও রোগমুক্তির জন্য দোয়া করেন।

বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী।

১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীর আহ্বানে খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিএনপির রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন।

বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। তার নেতৃত্বে কয়েক দশকে দেশের রাজনীতিতে বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন