Logo
Logo
×

সংবাদ

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার সংসদের সামনে, দাফন স্বামীর কবরের পাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম

খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার সংসদের সামনে, দাফন স্বামীর কবরের পাশে

খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও এর সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে তার স্বামী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনটির সামনে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

এ সভায় বিশেষ আমন্ত্রণে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অংশ নেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমাদের সভাকে অবহিত করেন যে, আগামীকাল বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এবং এর সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভেনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার পর তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে, খালেদা জিয়ার পরিবার এবং দলের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বেগম জিয়ার নিরাপত্তাসহ সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ জানান।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন আমাদের ধর্ম উপদেষ্টা। সবাই বেগম জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল থেকে তিন দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং আগামীকাল সাধারণ ছুটির ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

আসিফ নজরুল বলেন, ‘সভায় বেগম জিয়ার মৃত্যুতে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আমাদের তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বাংলাদেশের যত দূতাবাস আছে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সেখানে শোক বই খোলা হবে।’

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় শোকের তিন দিন দেশের সব সরকারি আধা সরকারি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একইসঙ্গে বুধবার দেশের প্রতিটি মসজিদে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয় গুলোতেও আয়োজন হবে বিশেষ প্রার্থনার।

গত ৪০ দিন ধরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধা পাওয়া খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪১ বছর। তিনি পাঁচবারের সংসদ সদস্য, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী; আর বিরোধী দলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস সভায় বেগম জিয়ার বিষয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। একটা কথা বলতেই হচ্ছে যে, উনি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেন, শেষ যখন দেখা হয়েছিল, বেগম জিয়া উনার সাথে একান্তে অনেকক্ষণ কথা বলেছিলেন। আপনারা জানেন, সেনাসদরে যে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রোগ্রাম, সেখানে উনি অত্যন্ত উৎফুল্ল ছিলেন, সবার সাথে কথা বলেছেন এবং উনি খুবই স্মৃতিচারণ করেছেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা। এবং উনি এটা বারবার বলেছেন যে, “আজকে এরকম জাতির এই বিশেষ মুহূর্তে আমাদের বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতি অনেক প্রয়োজন ছিল।”’

খালেদা জিয়া ‘অবিনশ্বর’ হয়ে থাকবেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘গোটা জাতি উনার জন্য দোয়া করেছে, আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় উনি চলে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে, বাংলাদেশের প্রতিটি আত্মমর্যাদাশীল গণতন্ত্রকামী দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে উনার অবস্থান অক্ষয় অবিনশ্বর হয়ে থাকবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি—বাংলাদেশের ইতিহাসে এত শ্রদ্ধা, এত সম্মান, এত ভালোবাসা নিয়ে এরকম একজন নেত্রীর চলে যাওয়া, এটা একটা বিশেষ মুহূর্ত। এবং আমরা বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ এই শোকে একত্রিত হয়েছি; একত্রে আমরা আগামীকাল শোক দিবস পালন করব।’

খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সবার সহযোগিতা চান তিনি।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন