তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই পূর্বাচলে দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন
প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে স্বাগত জানাতে সকাল থেকেই রাজধানীর পূর্বাচলে দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কজুড়ে দেখা গেছে ছোট ছোট মিছিল, স্লোগান আর ব্যানার-পোস্টারে মুখর পরিবেশ। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে জড়ো হয়েছেন গণসংবর্ধনা স্থলের আশপাশে।
দলীয় সূত্র জানায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান। বিমানবন্দর থেকে সোজা পূর্বাচলে গণসংবর্ধনার মঞ্চে নিয়ে আসা হবে তাকে।
পূর্বাচলের কুড়িল মোড় থেকে শুরু করে সংবর্ধনার মূল মঞ্চ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে শোভা পাচ্ছে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন। কুড়িল মোড় থেকে কিছুটা দূরে সড়কের পাশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি মঞ্চ, যার দৈর্ঘ্য ৪৮ ফুট ও প্রস্থ ৩৬ ফুট। মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
ভোর থেকেই নেতাকর্মীরা স্লোগানে মুখর করে তোলেন পুরো এলাকা। স্লোগানে বারবার উঠে আসে—‘মা-মাটি ডাকছে, তারেক রহমান আসছে’, ‘তারেক রহমান আসছে, বাংলাদেশ হাসছে’, ‘তারেক রহমান, বীরের বেশে, আসছে ফিরে বাংলাদেশে’। কেউ কেউ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান আগত নেতা-কর্মীদের।
পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক স্ক্রিন, যাতে মূল মঞ্চের অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন দূরবর্তী নেতাকর্মীরা। সেইসঙ্গে শতাধিক মাইক লাগানো হয়েছে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টে।
গণসংবর্ধনার পুরো এলাকা ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। কাজ করছেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মঞ্চের দুই পাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর তাঁবু। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্স (সিএসএফ)–এর সদস্যরাও।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির নেতা শোয়াইব আহমেদ সোহেল বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজ সেই অপেক্ষার অবসান হলো। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বেই দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
বিএনপি জানায়, জনদুর্ভোগ কমাতে তারেক রহমান এমন দিনে দেশে ফিরছেন, যেদিন সরকারি ছুটি রয়েছে। তবুও বিপুলসংখ্যক মানুষ গণসংবর্ধনায় অংশ নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে অনুমান করা হচ্ছে, আজকের এই আয়োজনে অংশ নেবেন লক্ষাধিক নেতা-কর্মী।
সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে বক্তব্য দেওয়ার পর তারেক রহমান যাবেন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
২০০৭ সালের এক-এগারো রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। পরের বছর মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান তিনি। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি পরিবারসহ সে দেশেই অবস্থান করছিলেন।
দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ ফের স্বদেশের মাটিতে পা রাখছেন তারেক রহমান। দলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, তার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা হবে।

