প্রথম আলোয় হামলার সময় কুড়াল হাতে সেই যুবকসহ গ্রেপ্তার আরও ১০ জন
প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার সময় কুড়াল হাতে মাইনুল ইসলাম। ফাইল ছবি: প্রথম আলো
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীতে প্রথম আলো কার্যালয়ে চালানো ভয়াবহ হামলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক কুড়াল হাতে জ্বলন্ত কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে উল্লাস করছে।
একই রাতে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে আরেক যুবক ঘোষণা দেন, ‘প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’। ভিডিও ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির সূত্র ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই দুজনসহ আরও বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান জানান, হামলার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই দিনে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
কুড়াল হাতে যিনি ভিডিওতে ছিলেন, তার নাম মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে রাজধানীর উত্তরার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ইসলা বাড়ি গ্রামে।
আর যিনি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ধ্বংসের ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তিনি কারি মুয়াজ বিন আব্দুল রহমান। তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জানা গেছে, তিনি যুব মজলিসের শরীয়তপুর জেলা শাখার নেতা। তার বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার পশ্চিম কান্দি গ্রামে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মুয়াজ বলেন, ‘যেটা ৫ আগস্ট করার কথা ছিল, আমরা পারিনি। আজ সেটা করেছি হাদি ভাইয়ের অসিলায়।’
পুলিশ জানায়, হামলার রাতে ঘটনাস্থল থেকে ছবি ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে অন্যদেরও হামলায় যোগ দিতে আহ্বান জানান নিয়াজ মাহমুদ ফারহান নামের এক ব্যক্তি। তার বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা গ্রামে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বাকি সাতজন হলেন: আবদুর রহমান (নোয়াখালী), মো. জান্নাতুল নাঈম (রংপুর), মো. ফয়সাল আহমেদ (চাঁদপুর), জুবায়ের হোসাইন (নোয়াখালী), মো. আলমাস আলী (ময়মনসিংহ), জুলফিকার আলী ওরফে সৌরভ (ঢাকার শাহ আলী) এবং মো. জাকির হোসেন শান্ত (ময়মনসিংহ)।
জাকির হোসেন শান্তকে গ্রেপ্তার করেছে সিটিটিসি। তিনি গফরগাঁও উপজেলার মশাখালীর চকপাত্রা গ্রামের বাসিন্দা এবং ঢাকার হাজারীবাগে থাকেন। সিটিটিসি সূত্র জানায়, তিনি হামলার সময় সেখানে ছিলেন এবং ফেসবুকে সরাসরি ভিডিও সম্প্রচার করেন।
পুলিশ জানায়, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

