ওসমান হাদির বিচার ছাড়া নির্বাচন নয়: ইনকিলাব মঞ্চ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। প্রয়োজন হলে সরকার পতনের আন্দোলনে নামবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আজ সোমবার দুপুরে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, বিচার এড়িয়ে নির্বাচন আয়োজন করে দায় এড়ানোর সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার পাবে না। দ্রুত দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারিক পদক্ষেপ না নিলে ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথেই থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, জানাজার মাঠে আবেগী বক্তব্য দিলেও হাদি হত্যার বিচার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। জনগণ তাকে দায়িত্ব দিয়েছে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, অসহায়ত্ব প্রকাশের জন্য নয়। তদন্তে কারা বাধা দিচ্ছে এবং সরকার কেন দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না—তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চ সরকারের প্রতি ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দুটি প্রধান দাবি তুলে ধরে। প্রথমত, শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ দ্রুত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশীয় সংস্থাগুলো খুনিদের শনাক্তে ব্যর্থ হলে এফবিআই বা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মতো আন্তর্জাতিক পেশাদার সংস্থার সহায়তা নিতে হবে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, অতীতেও রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম কণ্ঠস্বর এবং ঢাকা-৮ আসনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ওসমান হাদির হত্যার বিচার রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
ভারতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় ও নিরাপত্তা সহযোগিতার উদাহরণ টেনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, খুনিরা যদি বিদেশে পালিয়ে থাকে, তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনতেই হবে। উলফা নেতাদের হস্তান্তরের নজির উল্লেখ করে তিনি বলেন, একতরফা সমঝোতার রাজনীতি জনগণ আর মেনে নেবে না।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি জুলাই বিপ্লব, স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রতীক। সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে তাকে আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার নিজেই রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে না।

