প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারে হামলার নিন্দা জানাল উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি যোগাযোগবিদদের সংগঠন
আগুনের মধ্যে ভবনে আটকা পড়েন ডেইলি স্টারের কর্মীরা।
ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংঘটিত সহিংস হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উত্তর আমেরিকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি যোগাযোগবিদদের সংগঠন—বাংলাদেশি কমিউনিকেশন স্কলার্স ইন নর্থ আমেরিকা (বিসিএসএনএ)।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও কর্মীদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, এবং এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও ডেইলি নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরের ওপর কথিত শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শতাধিক লোকের একটি দল ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা ভবনের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে, সরঞ্জাম ধ্বংস করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে।
সাংবাদিকরা আগুন নেভাতে চেষ্টা করলেও তাদের বাধা দেওয়া হয়। পরে হামলাকারীরা দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়েও ভাঙচুর করে, আসবাবপত্র রাস্তায় এনে পুড়িয়ে ফেলে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়।
বিসিএসএনএ মনে করে, এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় ও ধ্বংসের মাধ্যমে দমন করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি সংগঠিত আক্রমণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সম্পাদকীয় স্বাধীনতা এবং পেশাদার গণমাধ্যম হিসেবে জনপরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এ ধরনের হামলা শুধু গণমাধ্যমের ওপর নয়, নাগরিকদের জানার অধিকারেও সরাসরি আঘাত।
সংগঠনটি অভিযোগ করে, যেসব গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে, তারা এমন দুটি গণমাধ্যমকে নিশানা করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার সমালোচক হিসেবে সক্রিয় ছিল।
বিসিএসএনএ বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জরুরি সেবা কার্যক্রমেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তারা আরও দাবি করে, সরকার তাদের নিজস্ব গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি, যেখানে সাংবাদিকদের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো দয়া নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক অধিকার। সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলার বিচার না হলে তা ভবিষ্যতে আরও সহিংসতাকে উসকে দেবে।
বিসিএসএনএ আহ্বান জানায়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের ওপর সংঘটিত হামলার বিষয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করতে এবং যারা পরিকল্পনা, উসকানি ও বাস্তবায়নে জড়িত—তাদের আইনের আওতায় আনতে।
সংগঠনটি সাংবাদিক, সম্পাদক, কর্মী ও জরুরি সেবাদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সাংবিধানিক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রাষ্ট্রকে অবশ্যই পুনর্ব্যক্ত ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে সাংবাদিকরা প্রতিশোধের ভয় ছাড়া কাজ করতে পারেন।
সংবাদমাধ্যমে হামলা মানে গণতন্ত্রের ওপর হামলা—এ মন্তব্য করে বিসিএসএনএ রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও জনগণকে সহিংসতা প্রত্যাখ্যান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
তাদের মতে, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এই প্রশ্নের সঠিক জবাবের ওপরই নির্ভর করছে।

