হাদির মৃত্যুতে আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোয় হয়েছে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার রাতে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর জানার পর রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা দেন।
আজ শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ বা ভারী বস্তু না আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংসদ ভবন এলাকা ও আশপাশে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চ এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
হাদির মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে তার কফিন গ্রহণ করে শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
গত ১২ ডিসেম্বর বিকালে বিজয়নগরে রিকশায় চলার সময় দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে খুব কাছ থেকে গুলি চালায়।
মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শরিফ ওসমান হাদি ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। গত বছর আওয়ামী লীগবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দেন।
তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন এবং পরে এর আহ্বায়ক হন।
নলছিটির সন্তান হাদি আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন না।
গত নভেম্বরে তিনি জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি সূত্র থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তবু ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

