হাদির জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসে পৌঁছেছে
ফাইল ফটো
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তাকে বহন করতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সোমবার সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।
গালফস্ট্রিম জি-১০০ মডেলের প্রাইভেট জেটটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সকাল ১১টা ২২ মিনিটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এসএম রাগীব সামাদ।
হাদির শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় দুপুরেই তাকে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, হাদির চিকিৎসার জন্য গত দুদিন ধরে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার কয়েকটি হাসপাতালে যোগাযোগ করা হয়েছে। রোববার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরামর্শে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, চিকিৎসক ডা. জাফর এবং হাদির ভাই ওমর বিন হাদি।
রোববার রাত ৮টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ভাই-বোনেরা এবং হাদির পরিবার মিলে ধারদেনা করে প্রায় আধা কোটি টাকা খরচ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করেছে। এখনও তারা সরকারের কোনো সহায়তা নেয়নি।’
তবে রাত ১০টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের ফেইসবুক পেজে জানানো হয়, ‘ওসমান হাদির চিকিৎসার সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে নজরে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
জুলাইয়ের অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসা শরীফ ওসমান বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন।
গত শুক্রবার বিজয়নগরে গণসংযোগের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা এক ব্যক্তি চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করেন।
তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে রাতেই স্থানান্তর করা হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাদির অবস্থা এখনো ‘অত্যন্ত আশঙ্কাজনক’।

