স্কুলে শাট ডাউন: পরীক্ষায় বিঘ্ন, ক্ষতির মুখে শিক্ষার্থীরা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দুটি সংগঠন একত্রিত হয়ে দেশজুড়ে তিন দফা দাবিতে শাট ডাউন কর্মসূচি শুরু করেছে।
ফলে আজ বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো অনেক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। বেশ কিছু স্কুলে শিক্ষকেরা নিজেরাই বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।
কিছু স্থানে সীমিত আকারে পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা হচ্ছে খণ্ডিতভাবে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এইভাবে নেওয়া পরীক্ষার উত্তরপত্র আদৌ নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে কি না।
এমন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনায় না বসে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালা এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইতিমধ্যে কয়েকজন শিক্ষক নেতার কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এ পদক্ষেপে আন্দোলনরত শিক্ষকরা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।
অনেকে বলছেন, এভাবে শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব না বাড়িয়ে প্রশাসনের উচিত দ্রুত আলোচনায় বসে সমঝোতা খোঁজা। কারণ ক্ষতির বোঝা শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ঘাড়েই গিয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবি হলো—সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড নিশ্চিত করা, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্ণ হলে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা দূর করা এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির ব্যবস্থা করা।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষকেরা ১৩তম গ্রেডে আছেন, যার শুরুর মূল বেতন ১১ হাজার টাকা।
সারা দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি; কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।

