Logo
Logo
×

সংবাদ

‌'ইয়াবা উদ্ধারে নয়ছয়'

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৪ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:১৫ পিএম

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ ৪ শতাধিক র‍্যাব সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহার

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কক্সবাজার ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত র‍্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল কামরুল হাসান, উপ-অধিনায়ক মেজর এহতেশামুল হক, মেজর নাজমুল ইসলাম, স্কোয়াড্রন লিডার, তৌহিদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম, সহকারী পুলিশ সুপার আ হ ম ফারুকসহ ৪১৩ সদস্যকে একযোগে 'প্রত্যাহার' করা হয়েছে। 'ইয়াবা উদ্ধারে নয়ছয়ের' অভিযোগে তাদের প্রত্যাহার হয় বলে জানা গেছে। তবে র‍্যাব মিডিয়া উইং থেকে দাবি করা হয়েছে- এটি নিয়মিত বদলির অংশ।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কামরুল হাসান কমান্ডার বিএনের অনুমোদনের ভিত্তিতে উপপরিচালক (প্রশাসন) মেজর ফয়সাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত ১৯ নভেম্বর ১৯৮ জন সদস্যকে এবং একই তারিখে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। এছাড়াও বৃহস্পতিবার আরও একটি প্রজ্ঞাপনে র‌্যাবের আরকও কয়েকজন সদস্যদের বদলি করা হয়।

র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী জানান, এক বছর ধরে কর্মরত থাকায় র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি করোনাকালে যশোর সেনানিবাসে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীর এর অধিনায়ক ছিলেন।

ইয়াবাকাণ্ডের অভিযোগ ও নেপথ্যে দুই বিতর্কিত অভিযান

র‍্যাবের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট না করলেও অসমর্থিত বেশ কয়েকটি সূত্র ও তথ্যপ্রমাণ বলছে বিতর্কিত দুটি অভিযানের কারণে সদর দপ্তরের তদন্তের ভিত্তিতে ‘গণবদলি’ কার্যকর করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া কুতুপালং পশ্চিম পাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে ৮৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ আটক দেখায় র‍্যাব। ওই অভিযানে নগদ ১৬ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ টাকা উদ্ধার দেখানো হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় তিন মাদক ব্যবসায়ীসহ ৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে অন্যতম আসামি হেলাল উদ্দিনের সহযোগী ও স্থানীয় শামসুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ সেলিমের ঠিকানা ঠিক রেখে পিতার নামের জায়গায় লেখা হয় মোহাম্মদ ইসলাম।

মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, ‘মাদক কারবারি সেলিমকে বাঁচাতে নামে মিল থাকায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি সাংবাদিকতা করি, কোনোভাবেই এ ধরনের ঘৃণিত অপরাধে জড়িত নয়, আশা করি তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে।’

মামলায় তথ্য বিভ্রাটের পাশাপাশি একই ঘটনায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা আত্মসাতের গুঞ্জন ওঠে।

সম্প্রতি নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করতে র‍্যাব সদর দপ্তরের একটি প্রতিনিধিদল কুতুপালং গ্রামের ঘটনাস্থল সফর করেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন