ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত সাদ্দাম হোসেন (৩৫) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তার বাড়ি মাইমলহাটির মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর বাড়িতে। তার স্ত্রী এবং দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে—একজন সাত বছর বয়সী, অন্যজন মাত্র দুই মাসের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সাদ্দাম বাসায় বসে খাচ্ছিলেন।
সেই সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, তার সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া এসে সাদ্দামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান।
কিছুক্ষণ পর খবর আসে, তাকে গুলি করা হয়েছে। পরে খালপাড় এলাকায় নতুন সেতুর পাশে দুই ব্যক্তি সাদ্দামকে টানাহেঁচড়া করে তুলতে চেষ্টা করছিলেন।
তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বুকে গুলির চিহ্ন ছিল, গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল। পরে ওড়না খুলে দেখা যায়, গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
এর আগের সন্ধ্যায় একই এলাকায় প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানেও কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় প্রেসের সামনে শাকিল সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা গেছে ভিডিও ফুটেজে।
সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, ‘তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। অন্যদের ফাঁসাতে গিয়েই এই কাজ করেছে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাদ্দাম আমার কাছেই ছিল। আমি কেন তাকে মারতে যাব? গুলি করেছে শাকিল ও তার লোকজন।’
সদর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

