ঠাকুরগাঁওয়ে কয়েকজন বাউল সাধকের ওপর হামলা হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে জেলা শহরের আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান।
হামলায় আহত চারজন হলেন মো. মোকলেস, আলামিন হোসেন, বাবুল বাউলা এবং সানোয়ার হোসেন। তারা সবাই বিভিন্ন উপজেলা থেকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে আটক বাউল আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে দুপুর আড়াইটায় প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ ঘিরে জেলা আদালত প্রাঙ্গণে বাউল অনুসারীরা জড়ো হতে থাকেন। এই সময় একদল লোক তাদের ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায়।
ঘটনার পর কয়েকজন বাউল ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে আশ্রয় নেন।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সেখানেও ঢোকার চেষ্টা করে। তারা ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দিতে আদালত এলাকায় শোডাউন করে।
সদর থানার ওসি সরোয়ারে আলম খান জানান, চৌরাস্তায় বাউলদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে পুলিশ আগে থেকেই মোতায়েন ছিল। তবে আদালত এলাকায় যে হামলা হয়েছে, তা ছিল বিচ্ছিন্ন এবং আচমকা। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে একই দাবিতে খুলনায় আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও হামলা হয়েছে। বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিল শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘ছাত্র জনতা’ ব্যানারে উপস্থিত কয়েকজন সেখানে হামলা চালায়।
তারা বিক্ষোভকারীদের মারধর করে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় এবং ব্যানার ছিঁড়ে আগুন দেয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, একসঙ্গে দুই পক্ষ একই স্থানে মানববন্ধন করতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

